নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৭ অক্টোবর ২০২৬

রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার কয়েক দিন আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

Islami Bank

তার সই করা নতুন আইনের আওতায় রাশিয়ার পণ্যে শুল্ক এবং দেশটির তেল ও গ্যাস কেনা দেশগুলোর ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয়।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম রাশিয়া ও ইরান নিষেধাজ্ঞা আইন, ২০২৬’-এ সই করেছিলেন। ইউক্রেনে রাশিয়ার ২০২২ সালের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে মস্কোর ওপর চাপ বাড়ানোই এ আইনের উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন…রাষ্ট্রপতি শুভেচ্ছা জানালেন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে

নতুন আইনে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের পাঁচ বৃহত্তম ক্রেতা দেশের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছিল।

আইন কার্যকরের ৩০ দিন পরও যেসব দেশ রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান ছিল। এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী শীর্ষ পাঁচ দেশের বিরুদ্ধেও শুল্ক আরোপ করা যেত।

তবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, তিনি বা তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এ ছাড় কার্যকর থাকবে। জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসকে অবহিত করেই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দিয়েছে আইনটি।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিজেদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে তার রিপাবলিকান দল।

one pherma

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারত। এমনিতেই ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির খরচ বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন করে রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।

রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা চীন ও ভারতও নতুন আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বেইজিং বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি ছাড়া অন্য দেশের ওপর একতরফা আইনি কর্তৃত্ব প্রয়োগের বিরোধিতা করে তারা। অন্যদিকে, নয়াদিল্লির সতর্কবার্তা ছিল, নতুন শুল্ক দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।

ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য ডন বেয়ার। ভার্জিনিয়ার এই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতার অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। তার মতে, এতে ইউক্রেনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দুর্বল হবে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কংগ্রেসের উদ্দেশ্য উপেক্ষিত হবে।

এর আগেও রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল সরবরাহের একটি চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ট্রাম্প। ওই চুক্তিতে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

বিনিময়ে রাশিয়া বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ করার কথা জানায়। সমালোচক কয়েকজন মার্কিন সিনেটরের দাবি, এ ধরনের চুক্তি রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থ জোগাতে সহায়তা করতে পারে।

অন্যদিকে, পুতিনের বিনিয়োগবিষয়ক দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় সব ধরনের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us