“জলবায়ু হুমকিতে একসাথে ভারত-পাকিস্তান, সমাধানে আলাদা পথ”

ইবাংলা.প্রেস | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ৭ ডিসেম্বর ২০২৪

আলী আসওয়াত, ব্যুরো চিফ, খাইবার পাখতুনখোয়া (পেশোয়ার), পাকিস্তান

Islami Bank

বিষাক্ত ধোঁয়াশা, ভয়াবহ তাপপ্রবাহ আর ধ্বংসাত্মক বন্যা—এই তিনটি একই সঙ্গে তাড়া করছে ভারত ও পাকিস্তানকে। ভৌগোলিক ও পরিবেশগতভাবে অভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ সহযোগিতার বিরল সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারছে না, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

একই সমস্যা, আলাদা পথ

দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরাশক্তি মিলিয়ে বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ মানুষ বাস করে। তবুও সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ধোঁয়াশার দায় একে অপরের ওপর চাপানোতেই ব্যস্ত দুই দেশ। পাকিস্তানের পাঞ্জাবে এ বছর দূষণ রেকর্ড গড়লে প্রাদেশিক সরকার “আঞ্চলিক জলবায়ু কূটনীতি”র আহ্বান জানায়। কিন্তু ভারত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্যই করেনি।

“আমরা ভৌগোলিকভাবে, পরিবেশগতভাবে এমনকি সাংস্কৃতিকভাবেও অভিন্ন। তাই আমাদের জলবায়ু সংকটও এক,” বলেন পাকিস্তান এয়ার কোয়ালিটি ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা আবিদ ওমর। সমাধান পেতে হলে আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করে কাজ করতে হবে।

জলবায়ু দুর্যোগে নাজেহাল

one pherma
  • পাকিস্তানের ২০২২ সালের ভয়াবহ বর্ষায় দেশের এক-তৃতীয়াংশ ডুবে যায়, প্রাণহানি হয় প্রায় ১ হাজার ৭০০ জনের।
  • ২০২৩ সালে উত্তর-পূর্ব ভারতের এক হ্রদ উপচে পড়ে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়।
  • চলতি বছর কেরালায় ভয়াবহ ভূমিধসে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
  • দুই দেশেই নিয়মিত ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপপ্রবাহ দেখা দিচ্ছে, কৃষকরা খরায় জর্জরিত।

অবিশ্বাসই প্রধান বাধা

ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারের দক্ষিণ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, এমন এক জরুরি অভিন্ন হুমকি দুই দেশকে এক করতে পারত। কিন্তু অবিশ্বাসই যেকোনো সহযোগিতার পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

উভয় দেশেই কৃষিজমি পরিষ্কার করতে ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হলেও কৃষকেরা সস্তা বিকল্প না থাকায় এ প্রথা চালিয়ে যাচ্ছেন। দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটভাটা ভাঙার হুমকি দেওয়া হলেও দুই দেশের পরিবেশ আইন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কোনো মিল নেই।

ইবাংলা.প্রেস/ বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us