“জলবায়ু ঝুঁকিতে শীর্ষে পাকিস্তান: জার্মানওয়াচ”

ইবাংলা.প্রেস | মুশাহিদ হোসেন | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

মুশাহিদ হোসেন, ব্যুরো চিফ, বেলুচিস্তান (মাস্তুং), পাকিস্তান:

Islami Bank

পাকিস্তানকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জার্মানওয়াচের ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স (CRI) ২০২৫। সংস্থাটির প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে পাকিস্তানের পরেই রয়েছে বেলিজ ও ইতালি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২২ সালে পাকিস্তানের রেকর্ড ভাঙা বর্ষা গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডস (GLOFs) দেশটিকে বিপর্যস্ত করে দেয়। এই বন্যায় ৩৩ মিলিয়ন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, প্রাণ হারায় হাজার ৭০০এর বেশি মানুষ, এবং অন্তত মিলিয়ন মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার

মূল তথ্য:

  • ২০২২ সালের আগস্টে পাকিস্তানে গড়ের তুলনায় ২৪৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়, যা ১৯৬১ সালের পর থেকে সর্বাধিক।
  • প্রায় . মিলিয়ন ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
  • পানীয় জলের সংকট ও ডায়রিয়া, কলেরা, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়াসহ নানা রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
  • দুর্যোগটি নারী ও গ্রামীণ কৃষিজীবীদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলে, ফলে লিঙ্গ বৈষম্য আরও প্রকট হয়

বিশেষজ্ঞ মত:

প্রতিবেদনের সহলেখক লিনা আদিল বলেন, অভূতপূর্ব বর্ষা তীব্র তাপপ্রবাহ পাকিস্তানকে ২০২২ সালে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশে পরিণত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এসব চরম আবহাওয়া ঘটনার প্রভাব অন্তত ৩০ গুণ বেড়েছে।

বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদিল নাজাম মন্তব্য করেন, এখন আর কোনো দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। পাকিস্তান ভুক্তভোগী হলেও শুধু ভুক্তভোগীর অবস্থান নিয়ে থাকা যথেষ্ট নয়।

one pherma

জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এডওয়ার্ড মাইবাচ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তানসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো ভয়াবহ দুর্দশায় পড়েছে। অবস্থার পরিবর্তন আনতে দ্রুত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে গিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট:

  • ১৯৯৩ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিশ্বে হাজার ৪০০টি চরম আবহাওয়া ঘটনা ঘটেছে, যাতে লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং . ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
  • দীর্ঘমেয়াদি সূচকে (১৯৯৩–২০২২) পাকিস্তান ৫৬তম হলেও সাম্প্রতিক বন্যার কারণে ২০২২ সালে সরাসরি শীর্ষে উঠে আসে।
  • যুক্তরাষ্ট্রও ২০২২ সালের তালিকায় ৭ম অবস্থানে রয়েছে।

প্রতিবেদনটির সুপারিশ:

  • ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে সহায়তা বাড়ানো।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে জনগণের কাছে পৌঁছানো।
  • অভিযোজন ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় অর্থায়ন বাড়াতে উন্নত দেশগুলোর এগিয়ে আসা।
  • কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে উচ্চ-নিঃসরণকারী দেশগুলোর দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়া।

প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে, জলবায়ু সংকট এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। বিশেষ করে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জন্য দ্রুত অভিযোজন ও বৈশ্বিক সহায়তা ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হবে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us