শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস-নাজিম বাহিনীর ভয় ও আতংকে ইসিবি চত্বর-মানিকদীবাসী
আমিনুল ইসলাম | ইবাংলা.প্রেস রিপোর্ট
রাজধানীর ইসিবি চত্বর ও মানিকদী এলাকায় বহুদিন ধরে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব চালিয়ে আসছিল আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ভূমিদস্যু আব্বাস ও নাজিম উদ্দিন বাহিনী। যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদ পতনের পর পরিস্থিতির কিছুটা পরিবর্তন হয়, তথাপি এখনও তাদের ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পায় না।
আরও পড়ুন…কাতারে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, দোহায় তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ
স্থানীয়রা জানান, আব্বাস ও নাজিম উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করে আসছিল। অভিযোগ রয়েছে, এ বাহিনী স্থানীয় ক্যান্টনমেন্ট থানাকে ম্যানেজ করে একের পর এক দখল কার্যক্রম চালিয়ে যায়।
যৌথ বাহিনীর অভিযানে আব্বাস ও নাজিম উদ্দিন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও, তাদের ক্যাডাররা এখনও এলাকায় সক্রিয়। ভুক্তভোগীরা জানান, সাবেক সরকারের সময় তারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও ডিএমপিতে বহুবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বোরহানউদ্দিন জানান, “আমার ২৩ বছরের পুরনো বাড়ির সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরেও আব্বাস বাহিনী দখল করে নেয়। থানায় অভিযোগ করেও কিছু হয়নি।”
একই রকম অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন বিমান বাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার আবুল বাশার। তার অভিযোগ, “২০১৮ সালে চাঁদা না দেওয়ায় আমার ১৩ শতাংশ জমি দখল করে নেয় আব্বাস। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানেনি।”
নামাপাড়ার বাসিন্দা লিটন উদ্দিন জানান, তার ১৫০ শতাংশ পৈতৃক জমি এখনো দখলে রয়েছে, “আমরা সাধারণ মানুষ, বাসস্থান নেই। জমি ফেরত চাই।”
ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি আব্দুল আলিম বলেন, “নিজামের বিরুদ্ধে প্রায় ২০টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে দুটি হত্যা মামলা। গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছি।” তিনি আরও বলেন, “আমার থানার সদস্যরা নিরলস কাজ করছে। জনগণ এগিয়ে এলে কোনো অপরাধী রেহাই পাবে না।”
পুলিশের দাবি, পলাতক আব্বাস-নাজিমের পক্ষের কিছু গণমাধ্যম কর্মী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করছে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা ধরা না পড়ে।
এই প্রতিবেদনটির বিষয়বস্তু সংবেদনশীল এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া বা আরও যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। ইবাংলা.প্রেস স্বাধীন ও ন্যায়ের পক্ষে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইবাংলা/ বা এ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.