শুল্ক কমলেও বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট, পোর্ট জটিলতা আরেক চ্যালেঞ্জ

ইবাংলা.প্রেস | ১ আগস্ট ২০২৫ | অর্থনীতি ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর আরোপিত পালটা শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হলেও—এই ছাড় কতটা কাজে লাগবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দেশের ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা।

Islami Bank

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সুযোগ শুধু কাগজে-কলমে থাকলে হবে না, বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান না হলে রপ্তানিতে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, “বাড়তি শুল্কের বোঝা কারা বহন করছে—রপ্তানিকারক না ভোক্তা—তা দেখা জরুরি। উদ্যোক্তাদের ওপর চাপ এলে তাদের মুনাফা কমে যাবে, যা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে প্রভাব ফেলবে।”

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “শুল্ক কমলেও আমেরিকার খুচরা বাজারে পণ্যের দাম বেড়েই যাচ্ছে। ফলে রপ্তানিকারকরা যে সুফল পাবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

আরও পড়ুন…কোনো বাধা দেখছি না ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হওয়ার: নজরুল ইসলাম খান

one pherma

তিনি আরও বলেন, “এই সুবিধা কাজে লাগাতে হলে বিদ্যুৎ, গ্যাস, ব্যাংক, লজিস্টিক, বন্দর—সব জায়গায় কাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, “গ্যাস না থাকায় কারখানা চলে না, উৎপাদনে দেরি হয়, ফলে সময়মতো পণ্য পাঠানো যায় না। তখন বিমানে পাঠাতে হয় বা ডিসকাউন্ট দিতে হয়। তাছাড়া, বন্দরে পণ্য উঠানো-নামানোতে বিলম্ব, এনবিআর থেকে ডকুমেন্ট ক্লিয়ারেন্সে দেরি—সব মিলিয়ে রপ্তানি খরচ বাড়ে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল শুল্ক কমলেই হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে—বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বন্দর ব্যবস্থাপনা দক্ষ করা. এনবিআর-সহ আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা, ব্যাংক ও লজিস্টিক খাতের আধুনিকায়ন
এসব ক্ষেত্রেও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক কমার এই সুযোগ বাংলাদেশের জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোর দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us