আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তির নতুন চেষ্টা

ইবাংলা.প্রেস | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১ আগস্ট ২০২৫

আগামি শুক্রবার (১৫ আগস্ট) বরফে মোড়া আলাস্কায় মুখোমুখি বসবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য সম্ভাব্য রূপরেখা তৈরি। কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও থাকতে পারেন।

Islami Bank

আরও পড়ুন…গাজা সম্পূর্ণ দখলের পরিকল্পনায় নেতানিয়াহু, সমর্থনে ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে—এত জায়গা থাকতে বরফে ঢাকা আলাস্কায় কেন এই বৈঠকের আয়োজন?
১৮৬৭ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আলাস্কা কিনে নেয়, যা দুই দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৫৯ সালে এটি মার্কিন অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা পায়। এই ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্রের কারণে অনেকের মতে, আলাস্কা শান্তি বৈঠকের জন্য প্রতীকী ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

রুশ প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ বলেন, “আলাস্কা নির্বাচন অত্যন্ত যুক্তিপূর্ণ। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবেশী দেশ, আমাদের মাঝে কেবল বেরিং প্রণালি। প্রতিনিধি দলগুলো বিমানে করে প্রণালি পার হলেই বৈঠকে অংশ নিতে পারবে।”

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে সক্রিয় ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি দাবি করেছিলেন, ক্ষমতায় এলেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করবেন। এমনকি ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলে যুদ্ধ বাঁধত না বলেও মন্তব্য করেন।

তবে তিন দফা বৈঠকের পরও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। গত মাসে ট্রাম্প প্রকাশ্যে পুতিনকে নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। এরপর ৮ আগস্টের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সময়সীমা দেন। কিন্তু কঠোর পদক্ষেপ না নিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৫ আগস্ট আলাস্কা বৈঠকের ঘোষণা দেন।

one pherma

আলাস্কা অতীতে আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চ হয়েছে। ২০২১ সালের মার্চে অ্যাঙ্কারেজে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছিল, যদিও সেটি তিক্ততায় শেষ হয়। চীনের প্রতিনিধি দল মার্কিন কর্মকর্তাদের ‘উদ্ধত ও ভণ্ড’ বলে আখ্যা দেয়।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলাস্কার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাশিয়া-মার্কিন সম্পর্কের প্রতীকী অর্থ—সব মিলিয়ে এই বৈঠক কূটনৈতিক দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তবে পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা সতর্কও করছেন, কারণ অতীতের আলোচনাগুলো প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

হোয়াইট হাউস ও ক্রেমলিন এখনো বৈঠকের সুনির্দিষ্ট ভেন্যু জানায়নি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা হবে সর্বোচ্চ পর্যায়ের। ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশালে’ লিখেছেন, “এটি হবে একটি বহুল প্রত্যাশিত ঐতিহাসিক বৈঠক। পরবর্তী তথ্য শিগগির জানানো হবে।”

বিশ্বজুড়ে নজর এখন ১৫ আগস্টের দিকে—দেখা যাক, আলাস্কার বরফ গলানোর সঙ্গে সঙ্গে কি ইউক্রেন যুদ্ধের বরফও গলে যায় কি না।

ইবাংলা/ বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us