ডিমোশনে বদলি কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার
ইবাংলা.প্রেস | শিবেন্দু বৈরাগী, নড়াইল প্রতিনিধি | ২০ আগস্ট ২০২৫, ঢাকা
নড়াইলের কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিককে ডিমোশন দিয়ে বদলি করেছে কৃষি বিভাগ। তার বিরূদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি,অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও সহকর্মীদের সাথে দূর্ব্যবহারসহ ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একাধিক তদন্তও হয়েছে। নিজের অপরাধ অন্যদের উপর চাপিয়ে নিজেকে বাঁচানোর আপ্রান চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। বহুল সমালোচিত এ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত কৃষি অফিসার পদে ডিমোশন দিয়ে বদলির আদেশ দিয়েছেন কৃষি বিভাগ।
আরও পড়ুন…রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ও কুমিল্লায় ভুয়া স্টেডিয়াম নির্মাণে দুদকের অভিযান
বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক জসীম উদ্দীন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক মো. ছাইফুল আলম কর্তৃক মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) স্বাক্ষরিত আদেশে নড়াইলের কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিককে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি অফিসার পদে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একই অফিস আদেশে চার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বদলি করা হয়। আদেশে বলা হয় আগামী ২৭ আগস্ট বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন। অন্যথায় পরদিন ২৮ আগষ্ট থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য হবেন।
কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিকের বিরূদ্ধে বাংলাদেশ ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত উপজেলার ১৪টি কৃষকদের পার্টনার ফিল্ড স্কুল গুলোতে চরম অব্যবস্থাপনা সহ কৃষকদের সেশনের সম্মানী ও নাস্তার টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগ ওঠে। জেলার সর্বত্র তাকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠে।
এছাড়া কৃষি কর্মকর্তা ইভা মল্লিকের মা সুচিত্রা মল্লিক এর নামে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কালিয়া শাখার হিসাব নং ২২০৫০৩১০১৪৪৯৭৪ তে অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন’র বিষয়ে সরকারি বে-সরকারি দপ্তরে কানাঘুষা শুরু হয়। এ হিসেবে পোনে ২ বছরে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮ টাকা লেনদেন হয়েছে। ওই ব্যাংকেই কর্মরত রয়েছেন ইভা মল্লিকের স্বামী শিমুল মল্লিক। যিনি তার দুর্নীতির অন্যতম সহযোগি। বিভিন্ন মহলে তিনি দেন দরবার করে মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করার পর ও শেষ রক্ষা হয়নি।
এদিকে তার হুমকির মধ্যে রয়েছেন কালিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের হেডক্লার্কসহ একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারী, যারা তার দুর্নীতি অন্যায়ের সমর্থন করেননি এবং সহযোগিতা করেননি। অভিযোগ রয়েছে এর আগে ওই কর্মকর্তার বিরূদ্ধে ঘুষ দাবি, হেনস্তা এবং ডিলারশিপ বাতিলের হুমকি দেয়ার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার কার্যালয় বরাবর অভিযোগ দেন সার ও বীজ ডিলার শেখ জামিল আহমেদ।
এ নিয়ে কয়েক দফায় তদন্ত করেন কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসন। নড়াইল শহর সহ নিজ এলাকায় কয়েক কোটি টাকার জমি কিনেছেন এ কর্মকর্তা। ধূর্ত কৃষি অফিসার ইভা মল্লিক বরাবরই সর্ব মহল ম্যানেজ করে চলছিলেন। তবে রুক্ষ ব্যবহার করতেন সহকর্মীদের সাথে। তার বদলি হলেও ওই অফিসের অনেকেই আছেন আতংকে।
আলোচিত কৃষি বিভাগের ওই কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ১৭ মে কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। এরপর থেকেই তার ভাগ্যের চাকা খুলে যায়। পাল্টে যায় তার আচরন ও বেশভুসা।
তবে কালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা থেকে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা পদ অবনমন ও বদলির বিষয় জানতে ইভা মল্লিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইবাংরা বাএ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.