জাতিসংঘের জলবায়ু–সংক্রান্ত ৩০তম সম্মেলন বা কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস (কপ৩০) শুরু হচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের বেলেম শহরে। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হয়ে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই ১১ দিনব্যাপী বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন।
ব্রাজিল জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো পুরোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ। আয়োজক দেশ হিসেবে ব্রাজিল চায়, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় দেশগুলো যেন তাদের অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ দেয়।
কপ বা “Conference of the Parties” হলো জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মূল আন্তর্জাতিক চুক্তি United Nations Framework Convention on Climate Change (UNFCCC)–এর সদস্য দেশগুলোর বার্ষিক বৈঠক। ১৯৯২ সালে রিও ডি জেনিরো শহরে এই চুক্তি সই হয় এবং ১৯৯৫ সালে জার্মানির বার্লিনে প্রথম কপ অনুষ্ঠিত হয়।
এবারের সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছে ব্রাজিল। বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই দেশেই ৩৩ বছর আগে জলবায়ু পরিবর্তন–সংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তির সূচনা হয়েছিল। ফলে, কপ৩০ আয়োজনের মাধ্যমে ব্রাজিল যেন আবারও বিশ্বকে পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
আরও পড়ুন…আমরা কখনো পালাব না নিজ মাটি ছেড়ে: মির্জা ফখরুল
দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ২৮–এ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও বিকল্প জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল অংশগ্রহণকারী দেশগুলো।
এবারের সম্মেলনে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থতার স্বীকৃতিও প্রথমবারের মতো আলোচনায় আসবে।
বেলেম শহরটি আমাজন রেইনফরেস্টের অংশ। তাই এবারের আয়োজক শহর বেছে নেওয়ার পেছনে উদ্দেশ্যও স্পষ্ট—বিশ্বের বনভূমি সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা। কারণ, শিল্পায়ন, খনিজ সম্পদ উত্তোলন ও কৃষি সম্প্রসারণের ফলে বিশ্বজুড়ে দ্রুত হারে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে। আমাজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল রক্ষার ওপর তাই জোর দেওয়া হবে এই সম্মেলনে।
প্রথম সপ্তাহে বিভিন্ন দেশ তাদের অগ্রাধিকার ও পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। দ্বিতীয় সপ্তাহে মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে শুরু হবে মূল দর–কষাকষি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া। বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল, ক্ষতিপূরণ এবং টেকসই জ্বালানি বিনিয়োগ—এই তিনটি ইস্যুই এবারের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.