বিশ্ব এইডস দিবস ২০২৫ এ বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে—মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিবর্তন করার ক্ষমতা আমাদের হাতেই আছে, এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এইডস মহামারীকে স্থায়ীভাবে নির্মূল করা সম্ভব।
বিগত এক দশকে এইডস মোকাবিলায় বিশ্ব যে অসাধারণ অগ্রগতি অর্জন করেছে তা অনস্বীকার্য। ২০১০ সাল থেকে নতুন এইচআইভি সংক্রমণ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ, আর এইডস-সম্পর্কিত মৃত্যু কমেছে অর্ধেকেরও বেশি। চিকিৎসা সুবিধার প্রসারও ইতিহাসের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক বেশি।
তবে আশার এই আলো সত্ত্বেও বিশ্বের বহু অঞ্চলে চিত্র ভিন্ন। অনেক মানুষ এখনো এইচআইভি প্রতিরোধ, পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত—তাদের পরিচয়, বসবাসের স্থান বা সামাজিক কলঙ্কের কারণে। সম্পদ ও সেবা হ্রাস পাওয়ায় ঝুঁকির মুখে পড়ছে অসংখ্য মানুষের জীবন এবং অর্জিত অগ্রগতি।
আরও পড়ুন…মেট্রোর ছাদে যাত্রী
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এইডস নির্মূল করতে হলে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন, প্রতিরোধে বিনিয়োগ, এবং সব মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবার ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা। নতুন উদ্ভাবন—যেমন দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা—দ্রুত বিস্তারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী এ সুবিধার আওতায় আসে।
প্রতিটি পদক্ষেপে মানবাধিকারের সুরক্ষা ও বৈষম্যহীন সেবা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে কেউ পিছিয়ে না থাকে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে জনস্বাস্থ্যের হুমকি হিসেবে এইডস সম্পূর্ণ নির্মূল করা এখনো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের আহ্বান—এই অর্জন সম্ভব করতে এখনই ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের বিকল্প নেই।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.