গৃহায়ন ধানমন্ডি প্রকল্পে অনিয়ম: ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, ১০ জনকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পে অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দের অভিযোগে একাধিক সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তা ও সাবেক কমিশনারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ১০ জনের সম্পদের হিসাব যাচাইয়ের জন্য সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।

Islami Bank

দুদকের প্রধান কার্যালয় সূত্র জানায়, সহকারী পরিচালক আল-আমিনের নেতৃত্বে এবং উপসহকারী পরিচালক নাহিদ ইমরান সদস্য হিসেবে অনুসন্ধান পরিচালনা করেন। অনুসন্ধান কার্যক্রম তদারকি করেন দুদকের পরিচালক (অনুসন্ধান ও তদন্ত-৩) মো. বেনজীর আহম্মদ।

এজাহার অনুযায়ী, রাজধানীর ধানমন্ডি আবাসিক এলাকায় অবস্থিত ‘গৃহায়ন ধানমন্ডি (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় ২২২তম ও ২২৫তম বোর্ড সভায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশে বিধিবহির্ভূতভাবে দুই ব্যক্তির নামে সাধারণ ফ্ল্যাটের পরিবর্তে প্রায় দ্বিগুণ আয়তনের দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাটের সংস্থান রেখে স্থাপত্য নকশা অনুমোদন দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন…সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের মোবাইল নিতে বাধা নেই ভোটকেন্দ্রে

অভিযোগে বলা হয়, জনাব মো. জহুরুল হক ও ড. মো. মোজাম্মেল হক খানের নামে ডি-১২ ও ডি-১৩ নম্বর ফ্ল্যাট এবং সি-১২ ও সি-১৩ নম্বর ফ্ল্যাট একত্র করে যথাক্রমে ৪ হাজার ১০৫.০৫ বর্গফুট ও ৪ হাজার ৩০৮.৬৮ বর্গফুট আয়তনের দুটি ডুপ্লেক্স ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা প্রসপেক্টাস ও নীতিমালার পরিপন্থী।

one pherma

দুদকের এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সংশ্লিষ্টরা পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থেকেও প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মিথ্যা হলফনামা প্রদান করেন এবং রাষ্ট্রীয় মূল্যবান সম্পদের অপব্যবহার করেন।

মামলার আসামিরা হলেন—
সাবেক অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ও সাবেক বিটিআরসি ও দুদক কমিশনার মো. জহুরুল হক
সাবেক সিনিয়র সচিব ও দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দার
সাবেক সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) মো. শাহজাহান আলী
সাবেক সদস্য (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) ড. মো. মইনুল হক আনছারী
সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা, নকশা ও বিশেষ প্রকল্প) বিজয় কুমার মণ্ডল
সাবেক সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) কাজী ওয়াসিফ আহমাদ এবং
সাবেক রেজিস্ট্রার জেনারেল (সিনিয়র জেলা জজ) সৈয়দ আমিনুল ইসলাম

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪০৯, ৪২০ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট আরও ১০ জনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সম্পদ থাকার সম্ভাবনার কথা উঠে আসায়, তাদের সম্পদের প্রকৃত হিসাব ও উৎস যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us