কোনো জাহাজ চলছে না যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া: হেগসেথ

ইবাংলা.প্রেস | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ আরও বিস্তৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া এখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।

Islami Bank

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ বলেন, আমাদের অবরোধের পরিধি বাড়ছে এবং এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি দিয়ে এখন বিশ্বের কোথাও কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।

এ সময় তিনি ইরানকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তেহরানের সামনে এখনো ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি ‘ভালো চুক্তিতে’ আসার সুযোগ রয়েছে।

শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইনকে পাশে নিয়ে হেগসেথ আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে যুক্তরাষ্ট্র ‘উদ্বিগ্ন নয়’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সুর টেনে তিনি বলেন, আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সামনে এখনও বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেওয়ার ও আলোচনার টেবিলে আসার সুযোগ রয়েছে। তাদের শুধু অর্থবহ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ত্যাগ করতে হবে।

অন্যদিকে শীর্ষ মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন জানান, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইতোমধ্যে ইরানের সব বন্দরের ওপর কঠোর নজরদারি ও অবরোধ বজায় রেখেছে।

আরও পড়ুন…সংসদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা

one pherma

তার তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৩৪টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তবে অ-ইরানি জাহাজগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং রাতভর অনেক জাহাজ চলাচল করেছে বলেও তিনি জানান।

কেইন বলেন, ইরানের কোনো বন্দর বা ভূখণ্ডে যাতায়াতকারী যেকোনো দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে আমরা এই অবরোধ কঠোরভাবে কার্যকর করছি। যেসব জাহাজ ইরানের দিকে যাচ্ছে বা ইরান থেকে বের হচ্ছে, সেগুলোর ওপর আমরা তীক্ষ্ণ নজর রাখছি এবং প্রয়োজনে গতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত আছি।

হরমোজ প্রণালিতে মাইনের হুমকি সম্পর্কে করা এক প্রশ্নের জবাবে হেগসেথ বলেন, প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল করছে ঠিকই, তবে তা মানুষের প্রত্যাশার চেয়ে ‘অনেক বেশি সীমিত’ এবং ঝুঁকিপূর্ণ।তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পানিতে মাইন স্থাপনের যেকোনো প্রচেষ্টা মোকাবিলা করা হবে এবং একে ‘যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য করা হবে।

প্রতিরক্ষাসচিব জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ইরানের কোনো দ্রুতগামী বোট (ফাস্ট বোট) যদি পানিতে মাইন স্থাপন করার চেষ্টা করে অথবা প্রণালিতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়, তবে সেটিকে যেন ধ্বংস করা হয়। হেগসেথ বলেন, আমরা কোনো দ্বিধা ছাড়াই ধ্বংস করার জন্য গুলি চালাব।

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের ওপর এই নৌ-অবরোধ কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র।অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, এ পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র: রয়টার্স

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us