সবাইকে ই-হেলথ কার্ড দেওয়া হবে ২০২৮ সালের মধ্যে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ জুন ২০২৬

সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দেশব্যাপী ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

Islami Bank

বুধবার (১০ জুন) সংসদে বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য নুরুন্নেসা সিদ্দিকার লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।মন্ত্রী বলেন, কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৮ সালের মধ্যে সব নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে।স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া।

আরও পড়ুন…সরকারি শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করবে সরকার

ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ই-হেলথ কার্ড প্রদান, জেলা হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পার্বত্য ও দুর্গম অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, নতুন হাসপাতাল স্থাপন, বিদ্যমান অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি, মা ও শিশুদের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা, ওষুধ ও টিকা সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, সমন্বিত ও আধুনিক পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তামাকজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল হেলথ আইডি চালুর মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে, যার মাধ্যমে একটি জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডাটাবেজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

one pherma

মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ ওষুধের পুনরাবৃত্তি রোধ, চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা, অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ব্যয় কমানো এবং একটি দক্ষ, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল হেলথ আইডির মাধ্যমে ই-হেলথ কার্ড প্রদান বাংলাদেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ ছাড়া সরকার দেশের প্রতিটি জেলায় আধুনিক মাধ্যমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, জনবল সংকট মোকাবিলায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে।

অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, স্যানিটেশন ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ নিশ্চিত করা, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গঠন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও প্রেসক্রিপশন অডিট ব্যবস্থা চালু, স্বাস্থ্য খাতের জন্য জাতীয় অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল গঠন এবং চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us