ঘৃণামূলক বক্তব্য বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তা
ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৬ জুন ২০২৬
ঘৃণামূলক বক্তব্যের বিস্তার রোধে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব António Guterres।ঘৃণামূলক বক্তব্য বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ঘৃণামূলক বক্তব্য অমানবিকীকরণের প্রথম ধাপ, যা প্রায়শই সহিংসতা, সংঘাত এবং নৃশংসতার দিকে সমাজকে ঠেলে দেয়।
বার্তায় মহাসচিব উল্লেখ করেন, ঘৃণামূলক বক্তব্য বিভাজন সৃষ্টির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার, যা রাজনৈতিক স্বার্থে নারী, অভিবাসী, শরণার্থী, এলজিবিটিকিউআইএ+ জনগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
তিনি বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঘৃণামূলক বক্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এ প্রবণতাকে আরও তীব্র করে তুলছে।অনেক অ্যালগরিদম বিভাজন ও ক্ষোভকে উৎসাহিত করে, ফলে মিথ্যা তথ্য ও সহিংস উস্কানিমূলক বার্তা সহজেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন…নতুন গিলাফে সজ্জিত হলো পবিত্র কাবা
জাতিসংঘ মহাসচিবের মতে, শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের সহায়তা এবং সরকার ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমে এই বিপজ্জনক প্রবণতা মোকাবিলা করা সম্ভব।
তিনি আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ঘৃণার উস্কানি প্রতিরোধ এবং অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান ও সামাজিক সংহতি জোরদারে রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন।
বার্তায় তিনি আরও বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা কখনোই ক্ষতিকর বা বিদ্বেষমূলক বার্তা প্রচারের অজুহাত হতে পারে না। বিদ্বেষমূলক বক্তব্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা এবং বৈশ্বিক ডেটা অখণ্ডতা নীতিমালা একটি নিরাপদ ও নৈতিক ডিজিটাল পরিবেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঘৃণামূলক বক্তব্য বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবসের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মহাসচিব বিশ্বের সকল মানুষকে কুসংস্কার ও বিদ্বেষ প্রত্যাখ্যান করে মানবাধিকার, মর্যাদা এবং পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.