আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ৯ নং শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আর মুজিবের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বীয় কর্মে জনপ্রিয় নন্দিত এক ইউপি চেয়ারম্যান এম আর মুজিব।
যিনি উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সম্পাদক,এবং জেলা যুবদলের গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক। বর্তমানেউপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিমধ্যে ব্যপক সুনাম অর্জনও করেছেন তিনি।
মাঠ পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে এমনটাই জানা গেছে, কিন্ত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আওয়ামী দোসর সু- কৌশলে ইউপি সদস্যদের বিভ্রান্ত করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ দাঁড় করিয়েছেন। যাতে করে তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।
আরও পড়ুন…এবার বসছে এআই ক্যামেরা ঢাকার ১২০ মোড়ে
অথচ যিনি আওয়ামী লীগের আমলে অনেক চরাই উৎরাই পেরিয়েও ধানের শীষ প্রতীকের ভোটে দাঁড়াতে পেরেছিলেন, এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ীও হন। তার এমন গ্রহণ যোগ্যতাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরেজমিনে এলাকায় ঘুরে এসে নানা অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমি উন্নয়ন করের ১% অর্থ থেকে ইউপি সদস্যরা তাদের সম্মানী ভাতা দাবি করেছিলেন।
কিন্তু সরকারি বিধান অনুযায়ী এই অর্থ দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করাই নিয়ম। কারও বেতন-ভাতা প্রদান করা বিধি বহির্ভূত। এই অর্থ দিয়েই ইতোমধ্যে শিবপুর ইউনিয়নে কয়েকটি দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীর সমন্বয়ে যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। সেই নীতিমালা মেনেই চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে নিম্নোক্ত কাজগুলো বাস্তবায়িত হয়েছে বলে জানা গেছে:
১. কনিকাড়া ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্ব থেকে গ্রামের কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার
২. বাঘাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ
৩. কনিকাড়া হাজী হাবিবুর রহমানের পুকুর ঘাটে গণ-ঘাটলা নির্মাণ
৪. কনিকাড়া শিবপুর-রাধিকা সড়ক থেকে জামাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সিসি ঢালাই
৫. কনিকাড়া মুজিব চেয়ারম্যান বাড়ির রাস্তা উঁচুকরণ ও সিসি ঢালাই
৬. কনিকাড়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা আরসিসি দ্বারা উন্নয়ন
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব কাজের ফলে তাদের যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। ১% অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর সমন্বয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সদস্যদের মাঝে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজে লাগিয়ে একটি মহল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও মিথ্যা অভিযোগের প্ররোচনা দিয়েছে বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “১% অর্থ যে বেতন-ভাতার জন্য ব্যবহার করা যায় না, সেটি আমরা আগে জানতাম না। ইউএনও ও প্রকৌশলীর সমন্বয়ে উন্নয়ন কাজে ব্যয় হয়েছে সেটিও আমাদের জানানো হয়নি।
এখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। আমাদের অনাস্থা প্রস্তাব ও অভিযোগ দেওয়াটা ভুল ছিল। আমরা তা প্রত্যাহার করতে চাই।” অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান এম আর মুজিব বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা বানোয়াট বিভ্রন্ত কর ।
১% ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর সমন্বয়ে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করতে হয়,এবং তাই করা হয়েছে। কাজগুলো মাঠে দৃশ্যমান। প্রতিটি প্রকল্পের কাগজপত্র ও ডকুমেন্টস সংরক্ষিত আছে।
চাইলেই যাচাই করা যাবে। তিনি আরও বলেন, “আমি বিগত দিনে সরকার দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে লড়াই করে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করতে ভূমিকা রেখেছি। আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
এর অংশ হিসেবেই সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা ও মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ১% অর্থের ব্যয় ও বাস্তবায়িত প্রকল্পের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন চাইলে যেকোনো সময় যাচাই-বাছাই করতে পারে।
তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন শিবপুরের সাধারণ জনগণ। অচিরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন জনগণ। এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে কাজ করার চক্রটির মুখোশ উম্মোচিত হবে বলে স্হানীয় বাসিন্দারা জানান।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.