খামেনির শেষ বিদায়, চার মাস ধরে কীভাবে সংরক্ষণ করা হলো মরদেহ?

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২ জুলাই ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর চার মাসেরও বেশি সময় পর আগামী ৯ জুলাই তার দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তেহরান। সম্ভাব্য ঐতিহাসিক জনসমাগমকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে বাসিজ মিলিশিয়া মোতায়েনসহ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Islami Bank

তবে দীর্ঘ সময় পর দাফনের এই প্রস্তুতিকে ঘিরে খামেনির মরদেহ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী রীতি অনুযায়ী সাধারণত দ্রুত দাফনের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়।

জর্জ ওয়াশিংটন প্রোগ্রামের চরমপন্থা বিষয়ক ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ ওমর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, মরদেহ রাসায়নিকভাবে সংরক্ষণ নয়, বরং বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে বলেই প্রায় নিশ্চিত।

আরও পড়ুন…প্রতিবন্ধীদের জন্য ওয়ান-স্টপ সেবা চালুর উদ্যোগ- সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

কারণ ইসলামে রাসায়নিক পদ্ধতিতে মরদেহ সংরক্ষণ করা নিষিদ্ধ।তিনি বলেন, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে শিয়া আইনে দাফন বিলম্বিত করা এবং শীতলীকরণের মাধ্যমে মরদেহ সংরক্ষণের অনুমতি রয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার ক্ষেত্রে এমন ধর্মীয় ছাড় পাওয়াও সহজ।

one pherma

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ফরেনসিক মর্গে অনেক সময় কয়েক মাস ধরে মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। ফলে চার মাস ধরে হিমায়িত অবস্থায় রাখা অস্বাভাবিক কিছু নয় এবং এটি ধর্মীয় ও আইনি মানদণ্ড অনুসরণেরই অংশ।

তবে ড. মোহাম্মদ ওমর মনে করেন, জনসমক্ষে প্রদর্শনের মতো মরদেহের খুব বেশি অংশ হয়তো অক্ষত নেই। বাঙ্কার বিধ্বংসী হামলায় খামেনি নিহত হন। তার সঙ্গে নিহত অন্যদেরও কয়েক সপ্তাহ পর উদ্ধার করে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছিল।

তার মতে, অক্ষত মরদেহ থাকলে বিদায় অনুষ্ঠান বাতিল, দাফনের স্থান বারবার পরিবর্তন বা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাফনের সময় নিশ্চিত না করার প্রয়োজন পড়ত না। এটি মরদেহ সংরক্ষণ করা সম্ভব হলেও তা প্রদর্শনের উপযোগী না থাকার বড় ইঙ্গিত দেয়।

উল্লেখ্য, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন খামেনি। তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us