রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বৃষ্টি-ভূমিধসে ১৫ নিহত, সহায়তার আহ্বান ইউএনএইচসিআরের

ইবাংলা.প্রেস | বিশেষ প্রতিবেদক | ১০ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণে মানবিক পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্ম (আরসিপি)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুলাই রাত থেকে ৯ জুলাই দুপুর পর্যন্ত দুর্যোগে অন্তত ১৫ জন রোহিঙ্গা নিহত, ১৮ জন আহত এবং ২৬ হাজার ১১৯ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সময়ে ৪ হাজার ৩০৭ জনকে নিরাপদ স্থানে সাময়িকভাবে স্থানান্তর করা হয়েছে।

Islami Bank

আরসিপির তথ্যমতে, এ সময়ের মধ্যে মোট ২৮৬টি আবহাওয়াজনিত ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯৫টি ভূমিধস, ১৫৬টি ঝড়ো হাওয়া এবং ২১টি আকস্মিক বন্যা।

টানা বৃষ্টিতে ২ হাজার ৮০৯টি আশ্রয় আংশিক এবং ১৩টি আশ্রয় সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা কেন্দ্র, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন…সারাদেশে ভারী বৃষ্টি : পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যার শঙ্কায় জনজীবন বিপর্যস্ত

পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থা জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর, খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

তবে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় ক্যাম্পগুলোতে নতুন করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বহাল রয়েছে।

এদিকে, চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি মাদ্রাসা ধস, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের প্রতি ইউএনএইচসিআর গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।

one pherma

তিনি বলেন, এসব মর্মান্তিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে প্রতি বর্ষা মৌসুমে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এই শরণার্থী ক্যাম্পে বসবাসকারী ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী কতটা ঝুঁকির মধ্যে জীবনযাপন করছেন। ভূমিধস, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি এখনও তাদের নিত্যসঙ্গী।

ইভো ফ্রেইসেন আরও উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেক ঝুঁকি যথাযথ পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত সম্পদ এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব।

কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অর্থায়ন সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধির উদ্যোগ সীমিত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জমির অভাবে অতিরিক্ত জনবসতিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ঘনত্ব কমানো এবং নিরাপদ অবকাঠামো গড়ে তোলাও সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ঝুঁকি জরুরি অবস্থায় রূপ নেওয়ার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হলেও অর্থায়ন ও সম্পদের সীমাবদ্ধতায় মানবিক সংস্থাগুলোকে প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে হয়। এরই করুণ প্রতিফলন দেখা গেছে চলতি সপ্তাহের প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোতে।

বিবৃতিতে ইউএনএইচসিআর জানায়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবন রক্ষা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সম্পদ, জমি ও পরিকল্পনার সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যাবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে বের করার প্রচেষ্টাও অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us