ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে গত ১৯ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় স্পেন।
তবে ম্যাচ শেষ হলেও ফাইনাল ঘিরে বিতর্ক থামেনি। রেফারিং ও ভিএআরের কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবিতে আর্জেন্টিনায় একটি অনলাইন ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চেঞ্জডটওআরজি-তে গিসেলা সানচেজ নামে এক ফুটবল সমর্থক এই পিটিশন চালু করেন। সর্বশেষ সেখানে ৬১ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছেন।
আরও পড়ুন…২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
পিটিশনে ফিফার কাছে স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের ম্যাচ পরিচালনা এবং ভিএআরের কয়েকটি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পিটিশনের উদ্যোক্তার দাবি, ফাইনালে এমন কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি তিনি কয়েকটি অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো যাচাইকৃত বা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বরং পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য ফিফার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে এই ধরনের অনলাইন পিটিশনের কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে প্রতিযোগিতার ফল পরিবর্তন বা ম্যাচ পুনরায় আয়োজন করতে বাধ্য করার ক্ষমতাও এ ধরনের আবেদনের নেই।
সাধারণত কোনো ম্যাচ পুনরায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় কেবল তখনই, যখন ক্রীড়া আইন বা প্রতিযোগিতার বিধিমালার আওতায় ব্যতিক্রমী কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে আর্জেন্টিনার এই উদ্যোগটি মূলত বিশ্বকাপ চলাকালে দেখা দেওয়া বিভিন্ন সমর্থক-নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা।
এর আগে ফ্রান্সেও একই ধরনের একটি অনলাইন ক্যাম্পেইনে ৮২ হাজারের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালে পেনাল্টি থেকে গোল হওয়ার আগে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার কারণে ম্যাচটি পুনরায় আয়োজন করা হোক। তবে সেই আবেদনও কোনো ফল বয়ে আনেনি।
উল্লেখ্য, ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে ফেররান তোরেসের একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনাজুড়ে হাজারো সমর্থক রাস্তায় নেমে লিওনেল মেসি ও দলের প্রতি সমর্থন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের খুব কাছাকাছি গিয়েও শিরোপা হাতছাড়া করায় তাদের মধ্যে হতাশা ছিল স্পষ্ট। ফাইনাল-পরবর্তী সময়ে রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে পুলিশের সঙ্গে কিছু সমর্থকের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.