COP31 হবে বাস্তবায়নের সম্মেলন, নতুন প্রতিশ্রুতির নয়: তুরস্কের মনোনীত সভাপতি মুরাত কুরুম
ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৯ জুন ২০২৬
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সহায়ক সংস্থাগুলোর ৬৪তম অধিবেশন (SB64) চলাকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে COP31-এর মনোনীত সভাপতি ও তুরস্ক সরকারের পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনা মন্ত্রী **মুরাত কুরুম** বলেছেন, জলবায়ু কর্মে নতুন লক্ষ্য ঘোষণার সময় শেষ। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইতোমধ্যে গৃহীত প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন।
তিনি বলেন, “আজকের বিশ্বে নতুন করে প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি নয়, বরং বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি। COP31-এর মূল লক্ষ্য হবে কথাকে কাজে এবং পরিকল্পনাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়া।
জার্মানির বন শহরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে কুরুম জানান, COP31 কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নভিত্তিক একটি রূপরেখা হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এতে বিদ্যুতায়ন, শূন্য বর্জ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু-সহনশীল শহর, সবুজ শিল্পায়ন, যুব অংশগ্রহণ, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ২০৩৫ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী বিদ্যুতায়নের হার ৩৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার আরও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে জলবায়ু কার্যক্রমের কেন্দ্রে শূন্য বর্জ্য নীতি এবং মিথেন গ্যাস নির্গমন হ্রাসকে স্থান দেওয়া হবে।
মুরাত কুরুম বলেন, ভবন খাতে শক্তির ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমানোর মাধ্যমে শহরগুলোকে আরও টেকসই, দক্ষ ও জলবায়ু-সহনশীল করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে সবুজ শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে বিশ্বব্যাপী উপকরণের চক্রাকার ব্যবহারের হার কমপক্ষে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বের প্রতিটি তরুণ-তরুণীর জন্য জলবায়ু শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং তরুণ কৃষকদের জলবায়ু-সহনশীল কৃষি পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি “ক্লাইমেট ইমপ্লিমেন্টেশন ব্রিজ” উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশকে তাদের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (NDC) বাস্তবায়নযোগ্য ও বিনিয়োগযোগ্য প্রকল্পে রূপান্তরে সহায়তা করা হবে, যাতে জলবায়ু অর্থায়ন দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
কুরুম বলেন, “COP31 নতুন শিরোনাম তৈরির জন্য নয়। এটি এমন একটি সম্মেলন, যেখানে ইতোমধ্যে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এমন একটি বৈশ্বিক সংকট, যার কোনো সীমানা নেই। তাই এই সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সংলাপ, ঐকমত্য এবং কার্যকর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।
তিনি জানান, বন-এ শুরু হওয়া সংলাপ COP31 আয়োজক শহর আন্তালিয়ায় আরও বিস্তৃত হবে এবং সেখানে বৈশ্বিক ঐকমত্য ও কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে মুরাত কুরুম বলেন, “আমরা একসঙ্গে জলবায়ু কার্যক্রমকে শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখব না; বরং বাস্তবায়নের মাধ্যমে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করব।”


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.