ইংলিশ ফুটবলে বহুল প্রতীক্ষিত সেই আর্থিক অনিয়মের তদন্তে বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিতেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম।
তবে এখনো ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নরা।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’-এর সাংবাদিক ডেভিড ওর্সটেইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র একটিতে ক্লাবটি দায়মুক্তি পেয়েছে। তিন বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া এই বহুল আলোচিত প্রক্রিয়ার ফলাফল এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন…আজ থেকে হামের টিকা ক্যাম্পেইন শুরু
অভিযোগগুলোর মধ্যে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫৪টি অভিযোগ মূলত ক্লাবের আর্থিক তথ্য ও হিসাব-সংক্রান্ত সঠিক তথ্য প্রিমিয়ার লিগকে না দেওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আরও ৩৫টি অভিযোগ রয়েছে তদন্তে সহযোগিতা না করার বিষয়ে।
এ ছাড়া খেলোয়াড় ও কোচদের চুক্তি, বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক লেনদেনের সঠিক তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ১৪টি। প্রিমিয়ার লিগের প্রফিট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি রুলস (পিএসআর) ভঙ্গের অভিযোগ ৭টি। বাকি ৫টি অভিযোগ উয়েফার আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত।
এর আগে ২০২০ সালে উয়েফার আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে ম্যানচেস্টার সিটিকে দুই বছরের জন্য ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করেছিল উয়েফা। তবে পরবর্তীতে কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টে (সিএএস) আপিলে সেই নিষেধাজ্ঞা বাতিল হয়ে যায়।
এবারের ঘটনায় সিটির বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন কিংবা আরও কঠোর ব্যবস্থা থাকতে পারে। এমনকি গুরুতর শাস্তি হিসেবে প্রিমিয়ার লিগ থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
অতীতের শিরোপাগুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক শাস্তি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ম্যানচেস্টার সিটির ভবিষ্যৎ পরিণতি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এখন অপেক্ষা বহুল প্রতীক্ষিত আনুষ্ঠানিক রায়ের।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.