শ্রমিকদের বিক্ষোভে ৩১৮ কারখানা বন্ধ: বিজিএমইএ

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ নভেম্বর ২০২৬

সম্প্রতি বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধ করেছেন। এতে বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এছাড়াও শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে বেশ কিছু কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

Islami Bank

এর মধ্যে ডিএমপি এলাকা, গাজীপুর-ময়মনসিংহ এবং সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী শিল্পাঞ্চলে ৩১৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ রয়েছে। কাজ না করে এসব কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৭ লাখ ২ হাজার ২৫৫ জন শ্রমিক। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) এক তথ্যে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজিএমইএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ডিএমপি এলাকায় ৩২০টি কারখানার মধ্যে মিরপুরে ৬৮টি বন্ধ রয়েছে। কাজ না করে এসব কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৫১ হাজার ৬২৫ জন শ্রমিক।

আরও পড়ুন…এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ

গাজীপুর ও ময়মনসিংহ এলাকার ৮৩৬টি কারখানার মধ্যে ২২৫টি বন্ধ রয়েছে। এ দুই এলাকায় কাজ না করে কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ৫ লাখ ২৫ হাজার ৩৬০ জন শ্রমিক।

অন্যদিকে, সাভার-আশুলিয়া ও জিরানী এলাকার ৪৪১টি কারখানার মধ্যে ২৫টি বন্ধ রয়েছে। কাজ না করে এসব কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৭০ জন শ্রমিক।

তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি শিল্পাঞ্চলে মোট কারখানার সংখ্যা ২ হাজার ১৩৪টি। এর মধ্যে ১ হাজার ৮১৬টি কারখানা চালু রয়েছে। শ্রম অসন্তোষের কারণে বন্ধ রয়েছে ৩১৮টি কারখানা।

one pherma

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া চাকরির ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকদের প্রাধান্য দেওয়ায় পুরুষ শ্রমিকেরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি তাদের। ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ দাবিতে আন্দোলন করছি।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুবুল হক সজীব বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার মালিকরা ছুটি ঘোষণা করেছেন। আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এখনও মাঠে আছে।

শিল্প পুলিশ আশুলিয়া জোনের পুলিশ সুপার (এসপি) মোমিনুল ইসলাম জানান, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সব ধরনের চেষ্টা করছে। বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের মালিকরা কারখানার কাজ বন্ধ রেখেছেন।

এদিকে রোববার (১ নভেম্বর) গাজীপুরের চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর, কোনাবাড়ী, মৌচাক, নাওজোড় এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।বিজিবি জানায়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ মোতায়েন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অসন্তোষ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য এসব গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

বিজিবি জানায়, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চন্দ্রা ও পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা, সফিপুর এলাকা, কোনাবাড়ী ও মৌচাক এলাকা, নাওজোড় এলাকা এবং ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us