জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গে‌ল

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৮ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবে মদিনা থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে একসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন ৭ বাংলাদেশি। তারা তিনটি পরিবারের সদস্য। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। নিহত ও আহতদের সবার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়।

Islami Bank

স্থানীয় সময় শ‌নিবার (৭ ন‌ভেম্বর) রা‌তে জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট এ তথ‌্য জা‌নি‌য়ে‌ছে।কনস্যুলেট জানায়, গত ৭ ন‌ভেম্বর দিবাগত রাত ২টার দিকে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে মোট ১৩ জন বাংলাদেশি হতাহত হন।

দুর্ঘটনায় নিহতরা মোট তিনটি পরিবারের সদস্য। এরমধ্যে জিয়াউর রহমানের পরিবারের চারজন, আলম শাহের পরিবারের দুজন এবং ইলিয়াসের পরিবারের একজন নিহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন…আবেদনের সময় বাড়ল এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের

জিয়াউর রহমানের পরিবারের চারজন হলেন- জিয়াউর রহমান, তার মেয়ে বুশরা এবং দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান। তাদের মরদেহ আল-হিমনা জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

এ পরিবারের আহত দুজন হলেন- জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও মেয়ে ইউসরা।শাকিরা খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে এবং ইউসরা জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আলম শাহের পরিবারের দুজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন-তার স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়া। তাদের মরদেহ যথাক্রমে আল-হিমনা ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

এ পরিবারের আহত দুজনের মধ্যে- আলম শাহ প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তার ছেলে ফায়সাল ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

one pherma

ইলিয়াসের পরিবারের একজন নিহত হয়েছেন। কয়েকদিন আগে ওমরাহ করতে সৌদি আরবে আসা তার স্ত্রী আফসানা বিবি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তার মরদেহ খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

আহত ইলিয়াস প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন।এছাড়া, আহত আরেক বাংলাদেশি গফুর আলম খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পাকিস্তানি নাগরিক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার।

ট্রাফিক অফিসের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে চালকের দাবি, টায়ার ফেটে যাওয়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীদের মধ্যে চারজন আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কোম্পানির মক্কা শাখার ম্যানেজার সালমানের তথ্য অনুযায়ী, গাড়িতে ওই চার কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

কনস্যুলেটের কাউন্সেলর (শ্রম) একজন আইন সহকারীসহ খোলাইস ট্রাফিক অফিসে যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহতদের চিকিৎসার বিষয়ে কনস্যুলেট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানানো হয়।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us