দু’বার ব্যর্থতার পরও উৎক্ষেপণে প্রস্তুত চন্দ্রযান আর্টেমিস ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পর পর দু’বার ব্যর্থতার পর ফের উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত চন্দ্রযান আর্টেমিস ১। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পরবর্তী উৎক্ষেপণ তারিখ ঘোষণা করেছেন। সংস্থাটি বলেছে, আর্টেমিস-১ চন্দ্রযানটি আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর উৎক্ষেপণ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুক্রাষ্ট্র ভিত্তিক গণমাধ্যম সিএনএন সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ খবর জানিয়েছে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে চাঁদের উদ্দেশে রওনা দেবে এই মহাকাশযান

Islami Bank

গত ৩ সেপ্টেম্বর একেবারে শেষ সময়ে এসে দ্বিতীয়বারের মতো বাতিল করা হয় আর্টেমিস-১ উৎক্ষেপণের চেষ্টা। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এটি উৎক্ষেপণ করার কথা ছিল।

আরও পড়ুন…অক্টোবর মাসে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ

কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জানান, যে ‘স্পেস লঞ্চ সিস্টেম’ (এসএলএস) রকেটের ওপর ভর করে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে সেই সিস্টেমের জ্বালানি সংরক্ষণাগারে ছিদ্র দেখা দেয়। তা থেকে তরল হাইড্রোজেন চুইয়ে পড়ছিল। এছাড়া তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাতেও ত্রুটি দেখা দেয়।

এর আগে গত ২৯ আগস্ট স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে প্রথমবার আর্টেমিস-১ উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হয়। সেবার উৎক্ষেপণের আগে রকেটের চারটি ইঞ্জিনের একটিতে ত্রুটি ধরা পড়ে। এরপরই উৎক্ষেপণ বাতিল করা হয়।

দুইবার ব্যর্থতার পর এক মাসের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো চেষ্টা করতে যাচ্ছে নাসা। সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকৌশলীরা বুঝতে পারেন, রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থায় লিক হয়েছে। এরপরেই মেরামতে লেগে পড়েন তারা। আরও জানানো হয়েছে, মেরামত করে ছিদ্রগুলো ঠিক করা হয়েছে।

one pherma

নাসা জানিয়েছে, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আবারও উৎক্ষেপণের চেষ্টা করা হবে ওরিয়ন মহাকাশযান আর্টেমিস ১। উৎক্ষেপণ যদি সফল হয়, তবে মহাকাশযানটি ৪৮ দিনের যাত্রায় বেরবে। পাড়ি দেবে ৬০ হাজার কিলোমিটার। পৃথিবীতে ফিরবে ১৮ অক্টোবর।

আরও পড়ুন…‘স্বনামধন্য অর্থপাচারকারীদের’ তথ্য প্রধানমন্ত্রীর হাতে

আর্টেমিস-১ চন্দ্রযানটি ৯৮ মিটার লম্বা। কমলা ও সাদা রঙের বিশাল রকেটটি তৈরিতে সময় লেগেছে কয়েক দশক। এর নাম রাখা হয়েছে গ্রিক পুরাণ অনুযায়ী। জ্বালানি হিসেবে ভরা হয়েছে ৩০ লাখ লিটার অতিরিক্ত ঠান্ডা তরল হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন। মূলত এসএলএস (স্পেস লঞ্চ সিস্টেম) ও ওরিয়ন ক্রিউ ক্যাপস্যুলের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের জন্য এই রকেট চাঁদে পাঠানো হচ্ছে।

১৯৬৯ সালে নাসার অ্যাপোলো-১৭ অভিযানে শেষবার চাঁদের মাটিতে পা রেখেছিল মানুষ। এর প্রায় ৫০ বছর পর আবারও চন্দ্রাভিযানে যাওয়ার চেষ্টা। তবে এখনই কোনও নভচারী যাচ্ছে না। নাসার ‘ডিপ স্পেস এক্সপ্লোরেশন’-এর প্রাথমিক পর্ব আর্টেমিস-১। সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালের মধ্যে চাঁদে মহাকাশচারী পাঠাবে বলে জানিয়েছে নাসা।

ইবাংলা/টিএইচকে

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us