ফখরুল-আব্বাসের জামিনে মুক্তি যেকোনো সময়

আদালত প্রতিবেদক

নাশকতার মামলায় আটক বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের জামিননামা
নিম্ন আদালতে দাখিল করা হয়েছে। সোমবার (৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এই জামিননামা দাখিল করা হয়।

Islami Bank

জামিননামা কারাগারে যাওয়ার পর তাঁরা মুক্তি পাবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। রাজধানীর নয়াপল্টনে গত ৭ ডিসেম্বর পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁদের।

ফখরুল ও আব্বাসের আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন মেজবাহ প্রথম আলোকে বিষয়টি বলেছেন।
আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, আপিল বিভাগ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসের জামিন বহাল রেখে গতকাল আদেশ দিয়েছেন।

আজ তাঁদের জামিননামা ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। জামিননামা কারাগারে যাওয়ার পর তাঁরা মুক্তি পাবেন।

গতকাল রোববার পল্টন থানার মামলায় ফখরুল ও আব্বাসের জামিন বহাল রেখে আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে মামলায় ফখরুল-আব্বাসের জামিননামা দাখিল না করতে চেম্বার আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তা তুলে নেন আপিল বিভাগ।

ফখরুল-আব্বাসের জামিন প্রশ্নে রুল ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বিএনপির এই দুই নেতার জামিন আবেদন গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. সেলিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চকে শুনানি করতে বলা হয়েছে।

one pherma

আপিল বিভাগের আদেশের পর বিএনপির দুই নেতার অন্যতম আইনজীবী কায়সার কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘এই মামলায় মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাসের ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। ফলে তাঁদের কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।

তবে জামিন পাওয়া বিএনপির নেতাদের গায়েবি মামলা বা পুরোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে, সর্বোপরি আইনের শাসন কায়েমের লক্ষ্যে অন্তত এই ক্ষেত্রে সরকার এ রকম পদক্ষেপ নেবে না বলে আশা করছি।’

ফখরুল ও আব্বাসকে ৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে তাঁদের বাসা থেকে আটক করে পুলিশ। ৭ ডিসেম্বর বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় করা একটি মামলায় পরদিন গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলায় ফখরুল ও আব্বাসের জামিন আবেদন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তিনবার নাকচ হয়। সর্বশেষ ২১ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ হয়। এ অবস্থায় তাঁরা হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেছিলেন।

ইবাংলা/টিএইচকে

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us