“জলবায়ু পরিকল্পনায় শেষ সতর্কতা জাতিসংঘের”

ইবাংলা.প্রেস | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৫ অক্টোবর, ২০২৪

আসাদ আব্বাস, ব্যুরো প্রধান, সিন্ধু (করাচি), পাকিস্তান

Islami Bank

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (UNEP) নতুন প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে, বিশ্ব উষ্ণায়ন বিপর্যয়কর মাত্রায় পৌঁছানো থেকে রোধ করতে দেশগুলোর কাছে জলবায়ু পরিকল্পনা সুপারচার্জ করার জন্য হাতে রয়েছে মাত্র কয়েক মাস।

আজারবাইজানে অনুষ্ঠিতব্য COP29 জলবায়ু সম্মেলনের আগে প্রকাশিত এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট জানিয়েছে, বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন হলেও বিশ্ব ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উষ্ণ হতে পারে, আর বিদ্যমান নীতিমালা অনুসরণ করলে তা ৩.১ ডিগ্রিতে পৌঁছাবে।

one pherma

বৈশ্বিক নির্গমনের চিত্র
• ২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ১.৩ শতাংশ বেড়েছে, যা সর্বকালের রেকর্ড ৫৭.১ বিলিয়ন টন CO₂ সমতুল্য।
• ২০১৯ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে নির্গমন ৪০ শতাংশ কমাতে হবে, অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ৯ শতাংশ হারে হ্রাস জরুরি।
• ২০২০ সালের মহামারিজনিত লকডাউনে নির্গমন মাত্র ৫ শতাংশ কমেছিল, যা প্রয়োজনীয় হারের তুলনায় অনেক কম।
প্রধান দূষণকারী দেশগুলো
• G20 অর্থনীতি মিলিয়ে ২০২৩ সালে মোট বৈশ্বিক নির্গমনের ৭৭ শতাংশ ঘটিয়েছে।
• চীন ৩০%, যুক্তরাষ্ট্র ১১%, ভারত ৮% এবং ইইউ ৬% কার্বন নির্গমন করেছে।
• যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সামান্য নির্গমন কমালেও (১.৪% ও ৭.৫% হ্রাস), চীন (৫.২% বৃদ্ধি) ও ভারত (৬.১% বৃদ্ধি) উল্টো নির্গমন বাড়িয়েছে।
প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবতা
• প্রায় ২০০ দেশ প্যারিস চুক্তির অধীনে নিজেদের জলবায়ু লক্ষ্য (NDC) জমা দিয়েছে।
• আগামী বছর ব্রাজিলে COP30 এর আগে এসব লক্ষ্য হালনাগাদ করার সময়সীমা থাকলেও জাতিসংঘ বলছে, এবার প্রতিশ্রুতিতে “একটি কোয়ান্টাম লীপ” বা বড় ধরনের অগ্রগতি প্রয়োজন।
• বর্তমান প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলেও বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রির নিরাপদ সীমা ছাড়িয়ে যাবে।
ঐতিহাসিক নির্গমন
• ১৮৫০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক দূষণকারী যুক্তরাষ্ট্র (২০%)।
• চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রত্যেকে ১২% করে, আর ভারত দায়ী ৩% নির্গমনের জন্য।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “মানবতার ভবিষ্যৎ রক্ষায় আমাদের এখনই বৈশ্বিক পদক্ষেপ বাড়াতে হবে। বিলম্বের সুযোগ নেই।”

ইবাংলা/ আইএইচ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us