প্রায় সব দেশ জাতিসংঘের জলবায়ু লক্ষ্য জমা দিতে ব্যর্থ

ইবাংলা.প্রেস | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

ইসলামাবাদে থেকে মুহাম্মদ হাসান

Islami Bank

ব্যুরো প্রধান, খাইবার পাখতুনখোয়া (কোহাট), পাকিস্তান

জাতিসংঘের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রায় সব দেশই নতুন জলবায়ু লক্ষ্য (কার্বন নিঃসরণ কমানোর পরিকল্পনা) জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত প্রায় ২০০ দেশের মধ্যে মাত্র ১০টি দেশ তাদের পরিকল্পনা জাতিসংঘে জমা দিয়েছে।

জাতিসংঘের ডাটাবেজ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ব্রাজিলসহ কিছু দেশ সময়মতো পরিকল্পনা জমা দিলেও চীন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় অর্থনীতির দেশগুলো অনুপস্থিত তালিকায় রয়েছে। এ অবস্থায় বৈশ্বিক উষ্ণায়ন রোধে পদক্ষেপ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

জাতিসংঘের জলবায়ু প্রধান সাইমন স্টিয়েল এ উদ্যোগকে “এ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতি নথি” বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, ২০৩৫ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ অর্ধেকে নামাতে হলে এখনই কঠোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।

যদিও লক্ষ্যপত্র জমা দেওয়ার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, তবে এটি দেশগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার একটি মাধ্যম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় দেশগুলো দেরি করলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার বৈশ্বিক প্রচেষ্টা হুমকির মুখে পড়বে।

one pherma

লন্ডনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক আইআইইডি’র নীতি গবেষক ইবনি হোল্যান্ড বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো বড় ধরনের ধাক্কা। তবে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা অর্থনৈতিক সংকটও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাধা তৈরি করছে।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে, আসন্ন নির্বাচনের কারণে দেরি হলেও COP30 সম্মেলনের আগেই নতুন লক্ষ্য ঘোষণা করা হবে। চীনও ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে তাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে কম উন্নত দেশগুলোর জোটের চেয়ারম্যান মালাউইয়ের কূটনীতিক ইভান্স নজেওয়া বলেন, অনেক দরিদ্র দেশের অর্থনৈতিক প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে জটিল নীতি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে না। বড় দূষণকারী দেশগুলোকেই এখন দায়িত্ব নিতে হবে।

জাতিসংঘ আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশগুলিকে “মানসম্মত লক্ষ্যপত্র” জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে নভেম্বরে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিতব্য COP30 সম্মেলনে তা পর্যালোচনা করা যায়।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us