দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের ৩ টি অভিযানে প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে অনিয়মের
বিশেষ প্রতিবেদক | ইবাংলা.প্রেস | দুর্নীতিবিরোধী অভিযান | ২৫ জুন ২০২৫
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট তিনটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজশাহী, রংপুর ও ঢাকায় পৃথক তিনটি অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক গাফিলতির প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে বলে জানা গেছে।
মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড-এর বিরুদ্ধে ঋণ বিতরণে অনিয়ম, অর্থ পাচার ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (২৫ জুন) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনফোর্সমেন্ট টিম প্রধান কার্যালয় ঢাকা থেকে এ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
আরও পড়ুন…সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, প্রতারক চক্র সম্পর্কে দুদকের সতর্ক বার্তা
এনফোর্সমেন্ট টিম কোম্পানির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে প্রতিষ্ঠানটির গঠন কাঠামো, আর্থিক লেনদেন, ঋণ নীতিমালা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় সরেজমিনে পর্যালোচনা করে। অভিযানের সময় গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, হিসাব বিবরণী, ঋণ সংক্রান্ত রেকর্ড ও অন্যান্য ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হয়।সংগৃহীত তথ্য ও নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দুদক কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ওষুধ ক্রয় ও চিকিৎসাসেবা প্রদানে অনিয়ম এবং রোগীদের হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। (বুধবার ২৫ জুন) সমন্বিত জেলা কার্যালয় দুদক, রাজশাহী থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা প্রথমে ছদ্মবেশে সাধারণ রোগীর স্বজন সেজে হাসপাতালের বিভিন্ন ইউনিট ঘুরে দেখেন। পরবর্তীতে তাঁরা চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা সংগ্রহ করেন।

রোগীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, হাসপাতালে রোগীদের ট্রলি সেবার জন্য ১০০–২০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রলিম্যানরা সরাসরি টাকা দাবি করছেন, যা স্বাস্থ্যসেবায় দুর্নীতির স্পষ্ট ইঙ্গিত। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে প্রাইভেট এম্বুলেন্স চক্রের দৌরাত্ম্য রয়েছে, যারা রোগী পরিবহনে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে এবং রোগীদের চাপ সৃষ্টি করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না নিয়ে প্রাইভেটটি নিতে।
এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযানের এক পর্যায়ে হাসপাতালের সেন্ট্রাল স্টোরে সরাসরি পরিদর্শন করে এবং ওষুধ ক্রয় সংক্রান্ত স্টক রেজিস্টার ও ইনভেন্টরি খাতা পর্যালোচনা করে। টিমের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী- ওষুধ সরবরাহে স্বচ্ছতার ঘাটতি, রেজিস্টারে দৈনিক চাহিদা ও মজুদের তথ্য যথাযথভাবে হালনাগাদ নয়। সরবরাহকৃত ওষুধের পরিমাণ ও ব্যবহারের হিসাবেও অমিল লক্ষ করা গেছে। এসব পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হয়েছে বলে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট টিম।
দুদক সূত্র জানায়, অভিযানের সময় সংগৃহীত সব তথ্য, রোগীদের মৌখিক জবানবন্দি, স্টক রেজিস্টারের কপি এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বক্তব্য সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের সদর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তদন্ত প্রতিবেদন মূল্যায়নের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সবশেষ দুদক দৃঢ়ভাবে জানায়, স্বাস্থ্যসেবার মতো সংবেদনশীল খাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল তারা। জনস্বার্থে এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে কমিশনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অন্য খবরে…
রংপুর সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার (বর্তমানে কর্মরত: পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রার) এর বিরুদ্ধে জাল সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বুধবার (২৫ জুন) দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর থেকে পাঠানো এনফোর্সমেন্ট টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
আরও পড়ুন…গুঞ্জন নয়, এবার সত্যিই গ্রেপ্তার হাবিবুল আউয়াল
অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত সাব-রেজিস্ট্রার নিজেকে ‘মুজিবনগর কর্মচারী’ পরিচয়ে উপস্থাপন করে একটি জাল সনদের মাধ্যমে চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। অভিযোগটি দুদকের দৃষ্টিগোচর হলে তা যাচাই-বাছাইয়ের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযান চলাকালে অভিযানের সময় সাব-রেজিস্ট্রারকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। অফিস সহকর্মীরা জানান, তিনি ছুটিতে আছেন। অভিযুক্তের চাকরি সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড বা প্রমাণপত্র অফিসে পাওয়া যায়নি।
দুদকের টিম জানিয়েছে, সাব-রেজিস্ট্রারের চাকরির সকল প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করে তা যাচাই করা হবে। এছাড়া, জাল সনদে চাকরি গ্রহণ সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে কমিশনের নিকট একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে, প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছে কমিশন।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে জাল সনদ ব্যবহার একটি গুরুতর অপরাধ, যা দণ্ডবিধি ও দুর্নীতি দমন আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কমিশনের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে দুদক।
ইবাংলা বাএ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.