ঋণ জালিয়াতি ও মানিলন্ডারিংয়ে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ইবাংলা.প্রেস | ২ জুলাই ২০২৫, ঢাকা
অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তিনটি পৃথক মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে।
দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, মেসার্স সাইফুল এন্ড কোং, এ এম ট্রেডিং এবং মোস্তফা এন্ড কোং—এই তিনটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি, সিআইবি রিপোর্ট না নেওয়া, ঠিকানা যাচাই না করে ও জামানত ছাড়াই তিন ধাপে মোট ৯০.৫০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণ করা হয়।
বুধবার (২ জুলাই) বিকালে দুদকের মিডিয়া সেন্টারে সংস্থার মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের এসব কথা জানান
আরও পড়ুন…জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও কর ফাঁকির অভিযোগ
পরে এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তর করা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রতারণার মাধ্যমে একটি বড় অঙ্কের ঋণ অনুমোদন ও আত্মসাৎ করেন।
২০১৩ সালের ১২ আগস্ট ৩২.৫০ কোটি টাকার একটি মেয়াদী ঋণ মেসার্স মোস্তফা এন্ড কোং-এর নামে মঞ্জুর করা হয়। তবে প্রকৃতপক্ষে এই অর্থ বিতরণ করা হয় অন্য একটি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এ এম ট্রেডিং-এর অনুকূলে। ঋণ প্রদানে সিআইবি রিপোর্ট সংগ্রহ, ঠিকানা যাচাই, সহায়ক জামানত গ্রহণসহ কোনো প্রকার প্রাথমিক শর্ত পূরণ করা হয়নি।
ঋণের অর্থটি রিলায়েন্স ফাইন্যান্স-এর অ্যাকাউন্ট থেকে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, খাতুনগঞ্জ শাখার মেসার্স মোস্তফা এন্ড কোং-এর অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে ওইদিনই একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ঘুরে পুরো অর্থ স্থানান্তরিত হয় এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড-এর অ্যাকাউন্টে। এর মাধ্যমে মোট ৩২.৫০ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
আসামিদের তালিকা:
১) মোহাম্মদ সাইফুল আলম (৬৫), চেয়ারম্যান, এস আলম গ্রুপ, ২) আব্দুস সামাদ (৫৯), ভাইস চেয়ারম্যান, এস আলম গ্রুপ, ৩) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান (৪৯), পরিচালক, এস আলম গ্রুপ, ৪) শাহানা ফেরদৌস (৪৯), পরিচালক, এস আলম গ্রুপ, ৫) প্রশান্ত কুমার হালদার (৫৯), সাবেক এমডি, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স, ৬) রাশেদুল হক (৫৪), সাবেক ইভিপি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, আভিভা ফাইন্যান্স, ৭) নাহিদা রুনাই (৪৪), ম্যানেজার ও কর্পোরেট ফাইন্যান্স প্রধান, ৮) কাজী আহমেদ জামাল (৫৯), এসভিপি ও মেম্বার, ক্রেডিট কমিটি, ৯) জুমারাতুল বান্না (৩৯), সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার, কর্পোরেট ফাইন্যান্স, ১০) জহির আহমেদ (৫১), সাবেক এমডি, মারিন ভেজিটেবল অয়েল লি., ১১) টিপু সুলতান (৪৪), পরিচালক, মারিন ভেজিটেবল অয়েল লি., ১২) মোঃ ইসহাক (৬৯), পরিচালক, মারিন ভেজিটেবল অয়েল লি., ১৩) সাইফুল ইসলাম, স্বত্বাধিকারী, মেসার্স সাইফুল এন্ড কোং।
এই মামলাটি দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৪০৯/১০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, “মামলা ৩টি কমিশনের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে এবং তদন্তপূর্বক দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ইবাংলা/ বা এ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.