ফেনীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, প্লাবিত ৯৮টি গ্রাম
ইবাংলা.প্রেস | ফেনী প্রতিনিধি | জনদুর্ভোগ | ১০ জুলাই ২০২৫, দুপুর ১২:৩৫
গত বছরের বন্যার ক্ষত এখনো শুকিয়ে না উঠতেই নতুন করে ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফেনী জেলার বিভিন্ন এলাকা। ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ার বিস্তীর্ণ জনপদে বইছে পানি। নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ভেঙে গেছে একের পর এক বেড়িবাঁধ। প্লাবিত হয়েছে অন্তত ৯৮টি গ্রাম।
আরও পড়ুন…গণহত্যার দায় স্বীকার, ট্রাইব্যুনালে রাজসাক্ষী হলেন সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল মামুন
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর প্রবল পানির চাপে নতুন করে আরও বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। বাঁধের অন্তত ২১টি স্থান দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। যদিও কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমেছে, তবে মুহুরী নদীর পানি এখনও বিপদসীমার নিচে থাকলেও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়।
পানিতে ডুবে গেছে বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও ফসলের মাঠ। ফেনী-পরশুরাম সড়কে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ভারত সীমান্তবর্তী বল্লামুখা এলাকায় ভারতের অংশের বাঁধ ভেঙে বাংলাদেশ অংশে পানি ঢুকে পড়ছে, ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে।
বন্যাকবলিত মানুষের অভিযোগ, প্রতিবারই ত্রাণ সহায়তা আসে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান নেই। তারা জানায়, ৭ হাজার ৩৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন নিয়ে রয়েছে সন্দেহ। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পটি যেন দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়—এটাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলায় ১৬১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে শুকনো খাবার পাঠানো হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্লাবিত গ্রামের পরিসংখ্যান: ফুলগাজী: ৬৭টি গ্রাম, পরশুরাম: ২৭টি গ্রাম, ছাগলনাইয়া: ৪টি গ্রাম
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কোথাও কোথাও নদীর পানি বেড়িবাঁধের ওপর দিয়েও প্রবাহিত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে।
ইবাংলা বাএ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.