রাঙামাটিতে অপহৃত মামুনের দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার; ঘাতক সাবেক কর্মচারী কামরুল স্ত্রীসহ গ্রেফতার
ইবাংলা.প্রেস | আলমগীর মানিক, রাঙামাটি | ১৫ জুলাই ২০২৫, মঙ্গলবার, ঢাকা
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় অপহরণের আটদিন পর পাওয়া গেল পোলট্রি ব্যবসায়ী মো. মামুনের (৩৫) দ্বিখণ্ডিত বস্তাবন্দি লাশ। আজ মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) সকালে কলমপতি ইউনিয়নের মাঝের পাড়া এলাকায় মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে কাউখালী থানা পুলিশ।
মামুনের সাবেক কর্মচারী কামরুল ইসলাম (৩০) ও তার স্ত্রী সাথী আক্তার (১৯)–কে এ ঘটনায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে চেক গ্রহণকারী আনোয়ার (২০) নামের আরও একজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন…তারেক রহমান প্রশ্নে কোনো আপোষ নয়, রাঙামাটিতে বিক্ষোভে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ
নিহত মামুন, সুগারমিল আদর্শগ্রামের বাসিন্দা ও আলী আহম্মেদের একমাত্র সন্তান। গত ৭ জুলাই বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার পর রাতেই স্ত্রীকে ফোন করে দুইটি ব্যাংক চেক রানীরহাটের এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিতে বলেন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
৮ জুলাই, মামুনের নম্বর থেকে ফোন করে পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে অপহরণকারীরা। এ বিষয়ে মামুনের স্ত্রী কাউখালী থানায় জিডি করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তে নামে পুলিশ।
গ্রেফতার, স্বীকারোক্তি ও লাশ উদ্ধার: তদন্তে উঠে আসে, মামুনের সাবেক কর্মচারী কামরুলই মূল ঘাতক। তাকে লক্ষীপুরের ভবানীগঞ্জে এক বন্ধুর বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল স্বীকার করে, সে ও তার স্ত্রী মিলে মামুনকে চায়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করে। এরপর লাশ টুকরো করে বস্তায় ভরে কাউখালী এনে তার ফুফা শ্বশুরের বাড়ির পাশে মাটি চাপা দেয়।
পুলিশ কামরুলের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে মামুনের দ্বিখণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে কামরুলের স্ত্রী সাথী আক্তারকেও গ্রেফতার করা হয়।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “ঘাতক কামরুলকে আদালতে তোলা হবে এবং রিমান্ড চাওয়া হবে। হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের সবাইকে খুঁজে বের করা হবে।” তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে চেক গ্রহণকারী আনোয়ারকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম জানান, “মামুন ও কামরুল এক সময় একসঙ্গে ব্যবসা করতেন। ধারণা করা হচ্ছে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রধান কারণ।”
নিহত মামুন ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার রেখে যাওয়া তিন সন্তান—দুই ছেলে (৩ ও ৮ বছর বয়সী) ও একটি কন্যা সন্তান (৯ মাস) রয়েছে। মামুনের মৃত্যুতে এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) নাদিরা নূর, কাপ্তাই সার্কেলের এএসপি জাহেদুল ইসলাম, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী আতিকুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: www.ebangla.press
ইবাংলা/এএইচসি


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.