ভুক্তভোগীরা সন্ত্রাসবিরোধী মামলার আসামি, মবের বিরুদ্ধে পদক্ষেপে শর্ত পুলিশের

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৯ আগস্ট ২০২৫

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেওয়া সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। তবে আলোচনায় হেনস্তাকারী “জুলাই যোদ্ধা” পরিচয়ের মবের বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

Islami Bank

আরও পড়ুন…লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন আদালতে কারাগারে পাঠানোর আবেদন

এই ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। কারণ হেনস্তার শিকার ব্যক্তিরাই এখন মামলার আসামি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা চলছে।

ঢাকার শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর বলেন, “আমরা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করেছি। তবে মব বা দলবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যারা হেনস্তা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হলে কাউকে বাদী হয়ে অভিযোগ করতে হবে। পাবলিক বা কোনো ব্যক্তি অভিযোগ করলে তা বিবেচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে—
“ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানা গেছে, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ‘মঞ্চ ৭১’-এর ব্যানারকে ব্যবহার করে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করা ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তিনি উপস্থিত অন্যদেরও প্ররোচিত করে বক্তব্য দেন।”

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, “এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদের ঘেরাও করে ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ স্লোগান দেয়।”

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম মনে করেন, “যদি ঘটনাস্থলে ভুক্তভোগীরা সন্ত্রাসবিরোধী হেনস্তার শিকার হয়ে থাকে, তবে তাদের বিরুদ্ধেই মামলা হওয়া ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

আইন অনুযায়ী পুলিশ নিজ উদ্যোগেও দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। মব হেনস্তার ঘটনায় সাধারণ মানুষের অভিযোগের প্রয়োজন নেই, কারণ পুলিশ নিজেরাই প্রত্যক্ষদর্শী।”

one pherma

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য ব্যারিস্টার রাশেদ আহমেদ বলেন, “এখানে পুলিশের পদক্ষেপ প্রশ্নবিদ্ধ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মতো গুরুতর ধারায় মামলা করার আগে প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। কিন্তু যারা মব তৈরি করে হামলার পরিবেশ সৃষ্টি করল, তাদের বাদ দিয়ে ভুক্তভোগীদের সন্ত্রাসবিরোধী আসামি করা হলে ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হবে।”

আরও পড়ুন…লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জন আদালতে কারাগারে পাঠানোর আবেদন

অন্যদিকে সাবেক অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট ফারহানা কবির বলেন, “আইনের ভাষায়, হেনস্তা বা গণউচ্ছৃঙ্খলতার ঘটনা ‘কগনিজেবল অপরাধ’। পুলিশ চাইলে অভিযোগ ছাড়াও সরাসরি মামলা নিতে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করতে পারে। তাই এ ঘটনায় কেবল অভিযোগের অজুহাত দেখিয়ে দায় এড়ানো আইনের দুর্বল প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়।”

সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়া
এ ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ভুক্তভোগীদের আসামি করে মামলা দায়েরের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা দায়মুক্তি পাচ্ছে।

মানবাধিকার কর্মী সেলিনা হক বলেন, “এটি স্পষ্টভাবে ভুক্তভোগীদের দ্বিতীয়বার হেনস্তা করার শামিল। রাষ্ট্র যদি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে।”

মামলার অগ্রগতি ও পুলিশের ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হেনস্তাকারী মবকে আইনের আওতায় না আনলে এটি বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থার সংকট তৈরি করবে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us