জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ‘UN80 উদ্যোগ’ বাস্তবায়নে কর্মী দল গঠন
ইস্রাফিল হাওলাদার | আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ইবাংলা.প্রেস | ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ (UNGA) বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকারিতা ও দক্ষতা বাড়াতে ‘UN80 উদ্যোগ’-এর আওতায় একটি অনানুষ্ঠানিক অ্যাড হক কর্মী দল গঠন করেছে। এই কর্মী দল মহাসচিবের রিপোর্টে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে এবং জাতিসংঘ ব্যবস্থার ম্যান্ডেট প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন আরও কার্যকর করার পথ নির্দেশ করবে।
আরও পড়ুন…জাতিসংঘে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব বিপুল ভোটে পাস
এই কর্মী দলটি সকল সদস্য রাষ্ট্র ও পর্যবেক্ষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দলটি কাজ শুরু করবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে, সর্বোচ্চ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে। তাদের কাজ শেষ হবে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে। পাশাপাশি, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে প্রাথমিক অগ্রগতি প্রতিবেদন সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করবে।
২ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের সভাপতি ফিলেমন ইয়াং এক চিঠিতে জানান, তিনি ৮০তম অধিবেশনের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকের সঙ্গে পরামর্শক্রমে নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী প্রতিনিধি ক্যারোলিন শোয়ালগার এবং জ্যামাইকার স্থায়ী প্রতিনিধি ব্রায়ান ওয়ালেসকে যৌথ চেয়ারপারসন হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
প্রস্তাবনার মূল দিক:
২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে গৃহীত (A/79/L.119/Rev.1) প্রস্তাবনায় সাধারণ পরিষদ মহাসচিবের আসন্ন কাঠামোগত পরিবর্তন ও কর্মসূচি পুনর্গঠনের প্রস্তাবকে স্বাগত জানায়। এতে বলা হয়, এ প্রস্তাব জাতিসংঘ ব্যবস্থার কার্যকারিতা, দক্ষতা, সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। পরিষদ কর্মী দলকে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে এবং কার্যকরভাবে ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে মহাসচিবকে সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ করেছে।
UN80 উদ্যোগের লক্ষ্য
জাতিসংঘ মহাসচিব ২০২৫ সালের মার্চে ‘UN80 উদ্যোগ’ চালু করেন। এর তিনটি মূল কার্যধারা (Workstream) হলো: দক্ষতা বৃদ্ধি ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ, ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন পর্যালোচনা, কাঠামোগত পরিবর্তন ও কর্মসূচি পুনর্গঠন, এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও ফলাফলমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
কর্মী দল গঠনের প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার পর ইরাক, ‘গ্রুপ অব ৭৭ ও চীন’-এর পক্ষে বক্তব্য দিয়ে একে “জাতিসংঘকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করে। তারা জোর দিয়ে উল্লেখ করে, প্রস্তাবগুলো অবশ্যই জাতিসংঘ সনদকে সম্মান করতে হবে, বহুপাক্ষিকতা শক্তিশালী করতে হবে এবং উন্নয়নশীল দেশের অগ্রাধিকার ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দিতে হবে।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধিরা এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘ ব্যবস্থার সংস্কারের “অর্থবহ ও জরুরি প্রয়োজনীয়তা”র ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বিশেষভাবে ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন পর্যালোচনার (Workstream 2) দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্ব হলো এমন ম্যান্ডেট প্রণয়ন ও পর্যালোচনা করা, যা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও ফলপ্রসূ হবে।
আরও পড়ুন…আন্তর্জাতিক ওজোন সংরক্ষণ দিবসে জাতিসংঘ মহাসচিবের বার্তা
জাতিসংঘকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, এর কার্যক্রম জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং অনেক ক্ষেত্রেই অকার্যকর। বিশেষ করে ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে দ্বন্দ্ব ও দুর্বলতা বহুবার সামনে এসেছে। UN80 উদ্যোগ সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে একটি সুসংগঠিত, কার্যকর ও ফলাফলমুখী জাতিসংঘ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা।
কর্মী দল গঠন এই প্রক্রিয়ার একটি বড় ধাপ হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ঐকমত্য না হলে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে। উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশগুলোর স্বার্থের পার্থক্য, বিশেষ করে অর্থায়ন ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের প্রশ্নে, বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
তবে ‘গ্রুপ অব ৭৭ ও চীন’ এবং উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের কার্যকারিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে এক ধরনের ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, এই কর্মী দল কতটা কার্যকরভাবে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সুপারিশ তৈরি করতে পারে এবং সেই সুপারিশ বাস্তবায়নে সদস্য রাষ্ট্রগুলো কতটা আন্তরিক হয়।
ইবাংলা.প্রেস/ বাএ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.