ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ঐতিহ্যবাহী নবীনগর প্রেসক্লাবকে নিয়ে একটি কুচক্রী মহলের উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর মিথ্যা ও পুরোপুরি তথ্য নির্ভর নয় এমন পোস্ট ও সংবাদ দিলে টনক নড়ে উঠে প্রেসক্লাব।
পরে এই সব গুজবে কারণে নবীনগরের মুলধারার মিডিয়ায় গণমাধ্যমের প্রায় শতাধিক সাংবাদ কর্মী সহ সুশীল সমাজের লোকজন সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদের ঝড় তোলেন।
গত দুই দিনে বিরতিহীন ভাবে তারা ফেইসবুক সহ নানা মাধ্যমে সোচ্চার হয়ে তীব্র নিন্দা প্রস্তাব সহ ওই মহলটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিষয় টি টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়ে উঠে।
নবীনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক ইনকিলাব এর প্রতিনিধি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি বলেন, নবীনগর প্রেস ক্লাব
কারো ব্যক্তিগত জমি কখনো দখল করেনি।
যে স্থানে প্রেসক্লাবের সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে, সেটি সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি। অতএব এ ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবং আমরা এর বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। মুল তথ্য হচ্ছে।
প্রেসক্লাব ২০১৭ সালের ৩০ শে নভেম্বর তারিখে তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহীন তানভীর গাজী এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করে এবং তৎকালীন প্রশাসনের সহায়তায় এর একটি অংশে প্রেসক্লাব ইমারত নির্মাণ করে । এখনো আবেদনকৃত জমির কিছু অংশ ইমারতের বাইরে রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যারা নবীনগরের স্থানীয় তাদের নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা, মহিলা কলেজের পিছনে অবস্থিত উক্ত জায়গাটি এক সময় সরকারি খাল ছিলো,তার পাশে একটি বকুল ফুলের গাছও ছিলো। বকুল ফুল গাছের পর রাস্তা এবং পরে পুকুর ছিল যা পরবর্তীতে খালটি ও পুকুরটি অদৃশ্য কালো হাতের ছোঁয়ায় ভরাট হয়ে যায়।
এবং ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়ে দীর্ঘদিন অবহেলিত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো। ওই খাস জায়গার একটি অংশ নবীনগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়।

অবশিষ্ট অংশটুকু নবীনগরের মুলধারার সাংবাদিকদের অর্থাৎ নবীনগর প্রেস ক্লাবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ওই জায়গায় প্রেসক্লাব ঘর নির্মাণ করা হয়।
আবেদনকৃত জায়গার কিছু অংশে ময়লা আবর্জনা স্তূপ বেশি থাকায় প্রেসক্লাবের ঘরের বাইরে থেকে যায়। আর সেই জায়গাটিএকাধিকবার কতিপয় ব্যক্তি, অবৈধভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে দখলের চেষ্টা করছিলো,কিন্তু প্রশাসন ও প্রেসক্লাবের বাঁধার কারণে দখলে যেতে পারে নাই। দুইজন অবৈধ দখলদারকে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে প্রশাসন উচ্ছেদও করেছে।
এবারও ওই খাস খতিয়ানের জায়গাটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা শুরু হলে সেই অংশের জায়গাটি প্রেসক্লাব পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কোন মালিকানা জায়গায় যায়নি প্রেসক্লাব।
কিন্তু কিছু কুচক্রী মহল প্রেসক্লাবের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার লক্ষ্যে মরহুম সাবেক কেবিনেট সচিব আকবর আলী খান সাহেবের নামকে জড়িয়ে ওই জায়গা নিয়ে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে সুবিধা গ্রহণের চুক্তিতে উঠে পড়ে লাগে।
আরও পড়ুন…বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা আরও তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে
প্রকৃতপক্ষে, মরহুম আকবর আলী খান সাহেবের মালিকানাধীন জমি তাঁর ওয়ারিশগণ ইতোমধ্যেই বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে । প্রেসক্লাবের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কোন কাজ তাঁর ক্রয় করা মালিকানা জমির উপর করা হয়নি। সব কিছু গুজব ও অপপ্রচার। প্রেসক্লাব একটি সামাজিক ও অলাভজনক সংগঠন, সরকারি জায়গা লিজ পাওয়ার প্রথম অধিকার রাখে সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান, কোন ব্যক্তি নয়।
নবীনগর প্রেসক্লাব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, মালিকানা নিয়ে যেহেতু প্রশ্ন উঠেছে,সেহেতু আইন যা বলবে প্রেসক্লাব তা সম্মানের সাথে গ্রহণ করবে। এবং স্হানীয় প্রশাসনের প্রতি আহবান তারা যোনো কুচক্রী মহলে কূটকৌশল গত প্রশ্নে বিব্রত না হন। তারা আপনাদের সহজসরল অফিসিয়ালি প্রশ্নের জবাব কে পুঁজি করে বিভ্রান্ত না ছড়ায়। আপনারা মুলধারার সাংবাদিকদের সঙ্গে বিধি মোতাবেক ভাবে পাশে থাকবেন।
আমরা এই সকল গুজব ও অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই। এবং সত্যকে সামনে আনতে আপনাদের সুশীল সমাজের সহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতাও কামনা করি।
ক্লাবের সিনিয়র নেতারা বলেন, আওয়ামী দোসর’রা নানা ভাবেই এমনকি মিডিয়ার সাইনবোর্ড ব্যাবহার করেও কেউ কেউ উঠে পড়ে লেগেছে। ওদের বিলুপ্ত করার জন্য এখনই সোচ্চার হয়ে হতে হবে। নবীনগর প্রেস ক্লাব একটি ঐতিহ্য বাহী ক্লাব। এখানে দেশের শীর্ষ স্হানীয় মিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মী রয়েছেন।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.