শতকোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারি: অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের চট্টগ্রামের আছাদগঞ্জ শাখায় বিপুল অঙ্কের ঋণ জালিয়াতি ও আত্মসাতের ঘটনায় দায়ের হয়েছে মামলা। অনুসন্ধান টিমের দাখিল করা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মেসার্স মিজান ট্রেডার্স নামের একটি বেনামী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকের ৫১ কোটি টাকা (বর্তমানে সুদে-আসলে প্রায় ১৮৯.৮০ কোটি টাকা) আত্মসাত করা হয়েছে।

Islami Bank

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর মিজান ট্রেডার্স নামে একটি চলতি হিসাব খোলা হয়। যদিও মাত্র দুই মাস পর ওই হিসাব পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় নূরজাহান গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জাসমীর ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদকে। এতে স্পষ্ট হয়, মিজান ট্রেডার্স প্রকৃতপক্ষে নূরজাহান গ্রুপেরই একটি ছায়া প্রতিষ্ঠান।

২০১০ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো বিশাল অঙ্কের আমদানী ঋণের আবেদন করে। এর মধ্যে ছিল—১০ হাজার মেট্রিক টন ছোলা আমদানির জন্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা এবং ৬০ হাজার মেট্রিক টন গম আমদানির জন্য প্রায় ১১৯ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা।

আরও পড়ুন…নবীনগরে শিক্ষার্থী জুঁই হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

শাখার তৎকালীন কর্মকর্তারা যথাযথ যাচাই-বাছাই না করেই এ প্রস্তাবে সুপারিশ করেন। পরবর্তীতে ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া ব্যাংকের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত গড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনও মেলে।

one pherma

কিন্তু নতুন ও অপ্রমাণিত গ্রাহক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বিপুল অঙ্কের এলটিআর ঋণ অনুমোদন এবং ঋণ শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করায় এটি যে একটি সুপরিকল্পিত আত্মসাতের ঘটনা—তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তদন্তে জানা গেছে, মূল সুবিধাভোগী ছিল নূরজাহান গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো।

এ ঘটনায় মেসার্স মিজান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো: মিজানুর রহমান, জাসমীর ভেজিটেবল ওয়েল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহমেদ, পরিচালক টিপু সুলতান ও ফরহাদ মনোয়ারসহ অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আব্দুল হামিদ–এর বিরুদ্ধে মামলা রুজুর অনুমোদন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।মামলাটি দায়ের করা হয়েছে দণ্ডবিধির ধারা ৪০৯/১০৯ তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭–এর ধারা ৫(২) অনুযায়ী।

প্রসঙ্গত, নূরজাহান গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরেই ব্যাংক ঋণ খেলাপি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। তবে একটি বেনামী প্রতিষ্ঠানের নামে খোলা হিসাবকে কেন্দ্র করে এত বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us