রেল প্রকল্প, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেনাপোলে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযান

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ৬ অক্টোবর ২০২৫

দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সোমবার (৬ অক্টোবর) চট্টগ্রাম, ঠাকুরগাঁও ও যশোরে পৃথক তিনটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে।

Islami Bank

অভিযান ০১: চট্টগ্রাম-দোহাজারি রেল প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান:

“চট্টগ্রাম-দোহাজারি মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজ রেলপথে রূপান্তর” প্রকল্পের অধীনে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ক্রয় প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা সংক্রান্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের মূল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (DPP)-এ লোকোমোটিভ ক্রয়ের কোনো নির্দিষ্ট প্রাযুক্তিক স্পেসিফিকেশন উল্লেখ করা হয়নি। স্পেসিফিকেশন ছাড়া বিল অব কোয়ানটিটিজ (BOQ)-এর ভিত্তিতে প্রায় ২,৩৬৪ কোটি টাকার ক্রয় প্রাক্কলন করা হয়, যা ২০২৩ সালে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়।

এনফোর্সমেন্ট টিম মনে করে, স্পেসিফিকেশন অনুপস্থিতি ও অস্পষ্ট প্রাক্কলন প্রক্রিয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। টিম ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অভিযান ০২: ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ ক্রয়ে অনিয়ম:

৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হরিপুর, ঠাকুরগাঁও-এ ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহে অনিয়ম এবং চিকিৎসাসেবায় হয়রানির অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে আরেকটি অভিযান পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন…বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের চুক্তি সই সৌদিতে

one pherma

অভিযানে টিম সরেজমিনে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করে ওষুধ ক্রয় সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র, স্টক রেজিস্টার, প্রাপ্তি ও বিতরণ রেজিস্টার, টেন্ডার ও অনুমোদন দলিল পর্যালোচনা করে।

২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এমএসআর (MSR) টেন্ডারের আওতায় ক্রয়কৃত ওষুধের চালান, বিল ও সরবরাহ সংক্রান্ত নথিতে প্রাথমিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। টিম প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে কমিশনের নিকট বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অভিযান ০৩: বেনাপোলে রাজস্ব ফাঁকি ও ঘুষ লেনদেনে অভিযান:

যশোর জেলার বেনাপোল স্থলবন্দরে অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রাজস্ব ফাঁকি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, যশোর থেকে অভিযান পরিচালিত হয়।

টিম বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব, মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক শাখাসহ বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালায়। অভিযানে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

এ সময় রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তারের সহযোগী ও স্থানীয় একটি এনজিওর সদস্য হাসিবুর রহমানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তদের অনৈতিক লেনদেন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us