দুই সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ও তদন্তের সিদ্ধান্ত

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ৭ অক্টোবর ২০২৫

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক দুই মামলায় সরকারি দুই সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদ গোপন ও সন্দেজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলা ও তদন্তের অনুমোদন দিয়েছে।

Islami Bank

এনবিআর সদস্য মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা:

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে,জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন চৌধুরী, যিনি পূর্বে কাস্টম হাউস, বেনাপোলের কমিশনার এবং শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যার্পণ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৮ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ১৬৬ টাকার সম্পদ প্রদর্শন করেন।

তবে অনুসন্ধানে তার নামে ১৩ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ৮৭৯ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এতে ৪ কোটি ৬০ লাখ ১৯ হাজার ৭১৩ টাকার সম্পদ গোপনের তথ্য মেলে। দায়-দেনা বাদে তার নীট সম্পদ ৭ কোটি ৫২ লাখ ৯৭ হাজার ৪১৩ টাকা, এবং পারিবারিক ব্যয়সহ মোট সম্পদ দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ ৯ হাজার ৪২৬ টাকা।

এর বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৫২ লাখ ৫৮ হাজার ৩০ টাকা, ফলে ৪ কোটি ৯৭ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৬ টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দুদক জানায়।

আরও পড়ুন…জীবনের শেষ সুযোগ হিসেবে নিয়েছি আগামী নির্বাচনকে: সিইসি

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অনুসন্ধান কাজ পরিচালনা করেন দুদকের উপসহকারী পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ।

one pherma

সাবেক মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা:

অন্য এক মামলায়, সাবেক সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া–০৩) ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৩২৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুদক।

তদন্তে দেখা গেছে, তিনি বৈধ উৎসে ২ কোটি ৯৮ লাখ ১ হাজার ২৩০ টাকার আয় প্রদর্শন করলেও, অনুসন্ধানে ৫ কোটি ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ৫৫৪ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এর ফলে ২ কোটি টাকার বেশি আয়-অসঙ্গত সম্পদের প্রমাণ মেলে।

এছাড়া তার নামে ৬টি ব্যাংকের ৮টি হিসাবে মোট ১২ কোটি ৮৯ লাখ টাকার জমা ও ১২ কোটি টাকার উত্তোলনসহ প্রায় ২৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার সন্দেজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা, এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা অনুযায়ী মামলা রুজুর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us