সারাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশনের তিন অভিযানে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ
ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ৭ অক্টোবর ২০২৫
সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে তিনটি পৃথক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযানে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু অনিয়ম ও অসঙ্গতির সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।
অভিযান ০১: এনসিটিবিতে নিম্নমানের কাগজে বই মুদ্রণ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ:
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক নিম্নমানের কাগজে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকা থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানকালে টিম এনসিটিবির বিভিন্ন দপ্তর পরিদর্শন করে এবং প্রাসঙ্গিক রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে।প্রাথমিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবই মুদ্রণে নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার, মুদ্রণ মানের ঘাটতি, বাঁধাই ত্রুটি এবং কিছু মুদ্রণ প্রেস মালিকদের সঙ্গে অসাধু যোগসাজশের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।এনফোর্সমেন্ট টিম সংগৃহীত রেকর্ডপত্র যাচাই করে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে।

অভিযান ০২: ঝিনাইদহে হাসপাতাল সেবায় অনিয়ম ও চিকিৎসক সংকট:
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা প্রদানে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঝিনাইদহ থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার, জরুরি বিভাগ, ওয়ার্ড, ক্যান্টিনসহ বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করা হয়।পরিদর্শনে দেখা যায়, ২০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক কর্মরত, ফলে স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।এছাড়া এ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার ও গাইনী কনসালটেন্ট না থাকায় সিজার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতালের জেনারেটর নষ্ট অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি লক্ষ্য করা হয়। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে টিম কমিশনের কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে।

অভিযান ০৩: ফরিদপুরে শিক্ষা অফিসে রেকর্ড গোপন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ:
ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সংস্কার ও অন্যান্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ফরিদপুর থেকে আরেকটি অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র মেরামত, জরুরি মেরামত ও ভোটকেন্দ্র স্থাপনসংক্রান্ত রেকর্ডপত্র পরিদর্শন করা হয়।জানা যায়, পূর্বতন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অবসরের আগে এসব রেকর্ড অফিসে বুঝিয়ে দেননি এবং প্রায়ই নিজ বাসায় নিয়ে কাজ করতেন।দুদক টিমের মতে, এসব ঘটনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির আভাস স্পষ্ট, যা তদন্তে প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.