ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পরিদর্শনে ২ ঘণ্টায় গাড়ি এগিয়েছে ৪০ মিটার, বিপাকে উপদেষ্টা,সহ সাধারণ যাএীরা
ইবাংলা.প্রেস | জ ই বুলবুল, ইবাংলা ডেস্ক | ৮ অক্টোবর ২০২৫
সিক্সলেন-ফোরলেন সড়ক সম্প্রসারণ কাজে যানজটে স্থবির ঢাকা-সিলেট এবং কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক। নানা জটিলতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়ার তন্তর পর্যন্ত এই কাজ গত প্রায় দু’বছর ধরে বন্ধ।
এতে দুর্ভোগ ভয়াবহ মাত্রার হয়ে উঠে। প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন বাধা দুর হওয়ার পর সম্প্রতি কাজের তোড়জোর শুরু হয়েছে। এমন অবস্থায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ-সরাইল অংশের কাজ দেখতে এসে ভয়াবহ যানজটের মুখে পড়েছেন।
সাধারন যাএীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। সকাল ১১ টায় আশুগঞ্জ থেকে যাত্রা শুরু করলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিশ্বরোডে পৌঁছাতে পারেননি। ২ ঘণ্টায় তার গাড়ি এগিয়েছে মাএ ৪০ মিটার।
বিশ্বরোড সকালে সাড়ে ১০টায় তার পরিদর্শনের সময় নির্ধারিত ছিলো। তিনি ঢাকা থেকে ট্রেনে করে সকাল সাড়ে ৯ টায় ভৈরব পৌঁছান। সেখানে থেকে আশুগঞ্জে পৌঁছে বিশ্বরোডের দিকে যাত্রা শুরু করেন। হোটেল উজানভাটি থেকে দেড় কিলোমিটার গাড়ি চলার পর সোহাগপুরে উপদেষ্টার গাড়ি বহর যানজটে পড়ে।
সোহাগপুর এলাকাতেই ৪০ মিটার পথ পেরুতে উপদেষ্টার সময় পেড়িয়েছে ২ ঘণ্টা। অবশ্য উপদেষ্টা আসার আগে গত ৩ দিন ধরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশে যানজট লেগে আছে।
আরও পড়ুন…দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী, তবে দিগন্তে মন্দার আশঙ্কা
এই মহাসড়কে দিন পেড়িয়ে রাতও কাটাতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী ও গাড়ি চালকদের।আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খাইরুল আলম জানান, সকাল সোয়া ১০টায় আশুগঞ্জের হোটেল উজানভাটির সামনে থেকে উপদেষ্টার গাড়িবহর সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।

কিছুদূর এগোনোর পরই উপদেষ্টার গাড়িবহর এবং জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার সোহাগপুর এলাকায় যানজটে আটকা পড়েন। হাইওয়ে এবং থানা পুলিশ যৌথভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এদিকে তীব্র যানজটের কারণে উপদেষ্টা মোটরসাইকেল যোগে পরিদর্শন করতে যান।
মতিন সাগর নামে গ্রীণলাইন পরিবহনের এক যাত্রী বলেন, গতকাল রাত ২টার দিকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রাজারবাগ থেকে বাসে উঠেছিলাম। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সরাইল-বিশ্বরোড মোড় পার হতে পারিনি। সারারাত গাড়িতে বসে কষ্ট করেছি। আমাদের এই ভোগান্তি-কষ্ট কেউ দেখে না। এই কষ্ট প্রতিনিয়ত করতে হচ্ছে আমাদের।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গতকাল দিবাগত মধ্যরাত থেকে যানজট আরও তীব্র হয়েছে। মূলত সড়কের দূরাবস্থার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হাইওয়ে পুলিশ যানজট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
সড়ক পুরোপুরি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত যানজট সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান হবে না। দ্রুত গতিতে এ রাস্তা সংস্করণের কাজ শেষ করে এর স্হায়ী সমাধান চান এই রুটে চলাচলকারী ভুক্তভোগী।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.