রাজনৈতিক অঙ্গনে ঝড় নাহিদ ও গোয়েন লুইসের বক্তব্যে

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং জাতিসংঘের ঢাকার আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইসের সাম্প্রতিক বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। নাহিদ ইসলামের ‘সেফ এক্সিট’ মন্তব্য ও গোয়েন লুইসের ‘সব জানেন’ উক্তি ঘিরে এখন চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও বিশ্লেষণ।

Islami Bank

গত ৫ অক্টোবর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠকে গোয়েন লুইস বলেন, তিনি “সব জানেন”—কোন আসন থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন এবং সিলেট থেকেই পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসবেন বলেও তিনি অবগত। তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে রহস্যের সৃষ্টি করেছে। কূটনৈতিক মহলের অনেকে বলছেন, এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলের বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগ্রহ ও প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অন্যদিকে, এনসিপি আহ্বায়ক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করেছে, তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবছে।

আরও পড়ুন…শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় হংকংয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলের নেতাদের এবং যারা উপদেষ্টা হয়েছেন, তাদের অনেককে বিশ্বাস করাটা আমাদের ভুল ছিল। অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছে অথবা গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।”

one pherma

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের উচিত ছিল ছাত্র নেতৃত্বকেই শক্তিশালী করা, সরকারে গেলে সম্মিলিতভাবে যাওয়া।” তিনি ইঙ্গিত দেন, সময়মতো তিনি সেই উপদেষ্টাদের নাম প্রকাশ করবেন যারা গণআন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলেছে। অন্যদিকে গোয়েন লুইসের মন্তব্য নতুন কূটনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এই দুই বক্তব্য সরকার ও বিরোধী উভয় মহলকেই ভাবাচ্ছে।

গোয়েন লুইস দীর্ঘদিন জাতিসংঘে মানবিক সহায়তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশে আসার আগে তিনি পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাই তাঁর “সব জানেন” মন্তব্যকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই বলে কূটনৈতিক মহলের অভিমত।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন প্রশ্ন, নাহিদ ইসলাম ও গোয়েন লুইসের এই বক্তব্যের প্রভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে—অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে, নাকি নতুন কোনো সমীকরণের সূচনা ঘটাবে?

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us