এস আলম গ্রুপ চেয়ারম্যানসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং মামলা অনুমোদন
ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ অক্টোবর ২০২৫
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও মানিলন্ডারিং মামলার চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান গঠন করে জাল কাগজপত্র তৈরি, ভুয়া ঋণ অনুমোদন ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারায় মামলাগুলো দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
তিন প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া ঋণ ও অর্থ আত্মসাত:
রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড (বর্তমানে আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড) এর কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট তিনটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মোট প্রায় ৯০ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাত করা হয়।
১️ মেসার্স এ এম ট্রেডিং এর নামে ২০১৩ সালের ১২ আগস্ট ৩৪ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ করা হয়।
২️ মেসার্স মোস্তফা এন্ড কোং এর নামে ২০১৩ সালের ৯ অক্টোবর ৩২.৫০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করা হয়।
৩️ মেসার্স সাইফুল এন্ড কোং এর নামে ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর ২৪ কোটি টাকা ঋণ প্রদান করা হয়।
ঋণ বিতরণের পর উক্ত অর্থগুলো বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে শেষে এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড এর হিসাবে জমা দেওয়া হয়। এইভাবে মানিলন্ডারিং অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, বলে দুদক জানায়।
আরও পড়ুন…ভোট গণনা চলছে চাকসু নির্বাচনে
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা:
চার্জশিটে আসামি করা হয়েছে—
(১) মোহাম্মদ সাইফুল আলম (৬৫), চেয়ারম্যান, এস আলম গ্রুপ ও প্রাক্তন চেয়ারম্যান, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড
(২) আব্দুস সামাদ (৫৯), ভাইস চেয়ারম্যান, এস আলম গ্রুপ
(৩) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ হাসান (৪৯), পরিচালক, এস আলম গ্রুপ
(৪) শাহানা ফেরদৌস (৪৯), পরিচালক, এস আলম গ্রুপ
(৫) প্রশান্ত কুমার হালদার (৫৯), সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স
(৬) রাশেদুল হক (৫৪), সাবেক ইভিপি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগ প্রধান
(৭) নাহিদা রুনাই (৪৪), সাবেক ম্যানেজার, কর্পোরেট ফাইন্যান্স বিভাগ
(৮) কাজী আহমেদ জামাল (৫৯), সাবেক এসভিপি ও ক্রেডিট কমিটির সদস্য
(৯) জুমারাতুল বান্না (৩৯), সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার, কর্পোরেট ফাইন্যান্স বিভাগ
(১০) জহির আহমেদ (৫১), ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মারিন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেড
(১১) টিপু সুলতান (৪৪), পরিচালক, মারিন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেড
(১২) মোঃ ইসহাক (৬৯), পরিচালক, মারিন ভেজিটেবল অয়েলস লিমিটেড
(১৩) সংশ্লিষ্ট নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীরা— মো. আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. গোলাম মোস্তাফা ও সাইফুল ইসলাম।
সম্পদ গোপন ও মানিলন্ডারিং অভিযোগ মাহী বি. চৌধুরীর বিরুদ্ধেও:
অন্যদিকে, দুদক জনাব মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী, পিতা একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বিরুদ্ধেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং এর অভিযোগে মামলা প্রক্রিয়াধীন রেখেছে।
তিনি প্রায় ২০ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ৬৮ একর জমির বায়না দলিলের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করার অভিযোগের মুখোমুখি।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.