জাতিসংঘের সিদ্ধান্তে শান্তিরক্ষা মিশন থেকে বাংলাদেশ পুলিশের প্রত্যাহার নির্দেশ
ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ অক্টোবর ২০২৫
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনরত বাংলাদেশ পুলিশের একমাত্র অবশিষ্ট কনটিনজেন্টকে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদান ও ভবিষ্যৎ অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
১৮০ সদস্যের এই কনটিনজেন্টের মধ্যে ৭০ জন নারী পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা আগামী নভেম্বরের মধ্যে দেশে ফিরে আসবেন। মাত্র দুই মাস আগেই এই দলের অংশ হিসেবে জাতিসংঘের একমাত্র সর্ব-মহিলা পুলিশ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছিল।
জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং দক্ষিণ সুদানের বিভিন্ন মিশনে ধাপে ধাপে সদস্যসংখ্যা কমানো ও প্রত্যাবাসনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ, যাদের পুরো কনটিনজেন্ট প্রত্যাহারের নির্দেশ এসেছে। অন্যদিকে ক্যামেরুন, সেনেগাল ও মিসরের মতো দেশের কনটিনজেন্ট আংশিকভাবে হ্রাস করা হবে।
আরও পড়ুন…তিন জেলায় দুদকের অভিযান: সরকারি ক্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও ভুয়া সনদ নিয়ে তদন্ত শুরু
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ পুলিশ সূত্র জানায়, শান্তিরক্ষা মিশনে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এক অতিরিক্ত ডিআইজি নিশ্চিত করেছেন, জাতিসংঘের বাজেট সংকোচন ও জনবল কমানোর নীতির কারণে বাংলাদেশের এফপিইউ ইউনিটকে নভেম্বরের মাঝামাঝি দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কঙ্গো মিশনের পুলিশ কমিশনার আমাদের ইউনিট কমান্ডারকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। এখনো আনুষ্ঠানিক চিঠি না এলেও নির্দেশ কার্যকর করা হবে।
বাংলাদেশের এফপিইউ সবসময় পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে—তবুও এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক।বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শাহাদত হোসেন বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
একজন সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, জাতিসংঘ সাধারণত সদস্যসংখ্যা কমালে তা সব দেশের ক্ষেত্রেই আংশিকভাবে প্রযোজ্য হয়। কিন্তু এবার পুরো বাংলাদেশ ইউনিটকে ফেরার নির্দেশ দেওয়া কূটনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। সরকারের উচিত ছিল জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়া।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.