অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বিদায়ের সুর বইছে। একাধিক উপদেষ্টা সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলছেন এবং সহকর্মীদের জানিয়েছেন—“যাওয়ার সময় এসেছে।” সচিবালয়ের দপ্তরগুলোতে এখন সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেখা যাচ্ছে।
সরকার ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, শিগগিরই উপদেষ্টা পরিষদে বড় ধরনের পরিবর্তন হতে পারে। বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সরকারে থাকা বিতর্কিত ও দলীয় উপদেষ্টাদের অপসারণের দাবি তুলেছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকের পর এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। প্রশাসনে ‘রদবদলের হাওয়া’ বইছে, সচিবালয়ের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে একধরনের তাড়াহুড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।একাধিক উপদেষ্টার একান্ত সচিব (পিএস) জানিয়েছেন, “স্যাররা এখন যেকোনো সময় চলে যেতে পারেন। আমাদেরও চাকরি অনিশ্চিত।
আরও পড়ুন…ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দেড় বছর পর বাংলাদেশের সিরিজ জয়
এদিকে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আসিফ মাহমুদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করতে পারেন।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি। তারা দাবি করেছে—দলীয় কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষ প্রশাসন নিশ্চিত না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানও এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “স্বজনপ্রীতিবাজ উপদেষ্টারা নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারবেন কি না—এ নিয়ে জনগণের সন্দেহ আছে। এখনই শুদ্ধি অভিযান চালানো জরুরি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে বর্তমানে রয়েছেন ২৩ জন সদস্য, তাদের মধ্যে দুজন ছাত্র প্রতিনিধি।সবমিলিয়ে প্রশাসন ও উপদেষ্টা পরিষদে অস্থিরতা বেড়েছে। নির্বাচনের আগে বড় রদবদল এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.