কুমিল্লা, রাঙামাটি ও ঝিনাইদহে দুদকের তিন অভিযানে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রমাণ

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ৫ নভেম্বর ২০২৫

দেশজুড়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম দমনে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সম্প্রতি কুমিল্লা, রাঙামাটি ও ঝিনাইদহে তিনটি পৃথক এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, দায়িত্বে গাফিলতি ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার একাধিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Islami Bank

অভিযান ০১: কুমিল্লায় মেরামতের অর্থ আত্মসাৎ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, কুমিল্লা কর্তৃক ২০২৩–২৪ অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় মেরামত ও সংস্কার খাতে কোনো কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালায় দুদক।

অভিযানকালে তিতাস উপজেলার দুধঘাটা নূরে মোহাম্মদী (সঃ) মাদ্রাসায় গিয়ে টিম দেখতে পায়—গত ১১ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে বাউন্ডারি ওয়াল ও গেট নির্মাণের কার্যাদেশ থাকলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি, তবুও বরাদ্দের টাকা তোলা হয়েছে।

নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দল ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য কমিশনে প্রতিবেদন দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।

অভিযান ০২: রাঙামাটিতে স্বাস্থ্যসেবায় বিশৃঙ্খলা

রাঙামাটির বরকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভূষণছড়া ও কলাবুনিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সেবায় অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগে আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে দুদক।

আরও পড়ুন…নবীনগরে বুড়ি নদীর পাড় কেটে রাতদিন মাটি বিক্রির অভিযোগ

one pherma

অভিযানকালে দেখা যায়—উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রশাসনিক অগোছালো অবস্থা ও সেবা প্রদানে স্থবিরতা লক্ষ্য করা যায়।

কলাবুনিয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে টিম পায়, কেন্দ্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত নেই। স্থানীয়রা জানান, ফার্মাসিস্ট ও এমএলএস পদে কর্মরতরা নিয়মিত অনুপস্থিত।

দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. ফারজানা ইয়াসমিনও সেখানে ছিলেন না।দুদক টিম প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে।

অভিযান ০৩: ঝিনাইদহে এলজিইডি প্রকল্পে অনিয়ম অনুসন্ধান

ঝিনাইদহ পৌরসভায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে তৃতীয় অভিযান পরিচালনা করে দুদক।অভিযানকালে জানা যায়, প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া চলমান এবং এখনো কোনো কার্যাদেশ জারি হয়নি। টিম পরিদর্শন করে টেন্ডার ডকুমেন্ট ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড সংগ্রহ করেছে। পর্যালোচনার পর কমিশনে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us