দুদকের এক দিনের ৩ অভিযান: চিকিৎসক স্বল্পতা, সেতু ও মাংস পরিবহনে দুর্নীতি তদন্ত
ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ নভেম্বর ২০২৫
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর এনফোর্সমেন্ট ইউনিট সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো নির্মাণ ও সরকারি খাদ্য সরবরাহসহ তিনটি ভিন্ন বিষয়ে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেছে। বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই অভিযানগুলি চালানো হয়।
১. বোচাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের হয়রানি
দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম বোচাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও নানা অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালায়।
অনিয়ম: অভিযানকালে দেখা যায়, হাসপাতালে তিনজন চিকিৎসক কর্মরত থাকা সত্ত্বেও মাত্র একজন ডাক্তার জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন MATS-এর একজন ইন্টার্ন ছাত্র, যা পর্যাপ্ত নয়।
ফলাফল: পর্যাপ্ত সংখ্যক ডাক্তার না থাকায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা নানাবিধ হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে প্রতীয়মান হয়।অন্যান্য: এছাড়া, হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবার সরবরাহেও অনিয়ম রয়েছে বলে টিম নিশ্চিত হয়। অভিযান চলাকালীন হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে এসব অনিয়ম সম্পর্কে অবহিত করা হয়। টিম এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করবে।
আরও পড়ুন…জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
২. কিশোরগঞ্জের ইটনায় সেতু নির্মাণে দুর্নীতি
কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলায় একটি সেতু ও তার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালায় কিশোরগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের একটি টিম।
কার্যধারা: দুদক টিম প্রথমে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে। এরপর নিরপেক্ষ প্রকৌশলীকে সাথে নিয়ে সেতু নির্মাণস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন ও পরিমাপ গ্রহণ করা হয়।পরবর্তী পদক্ষেপ: অভিযানকালে প্রাপ্ত তথ্য এবং নিরপেক্ষ প্রকৌশলীর মতামতের ভিত্তিতে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

৩. সৌদি কোরবানির মাংস পরিবহনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বন্দর হতে ফ্রিজিং ভ্যানে সৌদি কোরবানির গোশত পরিবহনের ঠিকাদার নিয়োগে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ ঢাকা প্রধান কার্যালয় হতে তৃতীয় অভিযানটি পরিচালিত হয়।
টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়ম: এনফোর্সমেন্ট টিম টেন্ডার সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করে দেখে—ঠিকাদার নিয়োগের জন্য মাত্র দুইটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে, যার মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠানকে রেসপন্সিভ বিবেচনা করে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি: অন্যান্য রেকর্ডপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এনফোর্সমেন্ট টিম প্রাপ্ত তথ্যাবলি ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে দ্রুতই কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করবে।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিট এই ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে, যার লক্ষ্য সরকারি সেবা ও অবকাঠামো খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।



মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.