রোববার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা না করলে সোমবার সকাল থেকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন কোটা বিরোধী ঐক্যজোট। শনিবার রাতে রাঙামাটি শহরের বনরূপা এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে কোটা বিরোধী ঐক্যজোটের নেতা নুরুল আলম জানান, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছ ও সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ৯৩/৭ কোটা অনুসরণ করে গ্রহণের দাবি জানিয়ে তারা জেলা পরিষদকে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। দাবি না মানা এবং ‘অশোভন আচরণের’ অভিযোগে সংগঠনটি রাঙামাটিতে ৩৬ ঘণ্টার হরতালের ডাক দেয়।
নুরুল আলম বলেন, “রাঙামাটিবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল সমর্থনের মধ্যেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পরীক্ষার স্থগিত ঘোষণা দিলে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে আমরা হরতাল সাময়িক প্রত্যাহার করি। কিন্তু স্থগিত পরীক্ষার নতুন তারিখ নভেম্বর মাসের মধ্যেই ঘোষণা করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, রোববার বিকেল ৫টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন বা পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না করা হলে সোমবার সকাল থেকে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে শাটডাউন শুরু হবে।
এর আগে শনিবার বিকেলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন…নবীনগরে ৩১ দফা বাস্তবায়নে বিএনপির জনসমাবেশ
ইতোমধ্যে বিদ্যমান প্রজ্ঞাপন ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কোন নীতিমালা অনুসরণযোগ্য হবে তা নির্ধারণের জন্য বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
অপরদিকে, এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অভিযোগ করে বলেছে, শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাঙামাটি জেলা পরিষদের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণ ও স্বচ্ছতার ঘাটতি নিয়ে আন্দোলন এবং হরতাল কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের ৫৩০টি সহকারী শিক্ষকের শূন্যপদে লিখিত পরীক্ষা ১৪ নভেম্বর ২০২৫ নির্ধারিত ছিল।
স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৪০-৪৫ দিন সময় প্রয়োজন হওয়ায় এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের তফসিল বিবেচনায় ৯ নভেম্বর মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত পর্যালোচনা সভায় পরীক্ষার গতি ত্বরান্বিত করতে ৩–৪টি বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
মন্ত্রণালয়ের দাবি, জেলা পরিষদ এসব প্রস্তাব বিবেচনায় না নিয়ে একতরফাভাবে ২১ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করেছে এবং পরবর্তী স্থগিতাদেশসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্তও এককভাবে গ্রহণ করেছে, যার কোনো তথ্য সরাসরি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়নি।
শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে একদিকে আন্দোলনরত সংগঠনের চাপ, অন্যদিকে মন্ত্রণালয় ও জেলা পরিষদের মধ্যে মতপার্থক্য; এই পরিস্থিতিতে রাঙামাটিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আগামী রোববারের মধ্যে প্রজ্ঞাপন বা পরীক্ষার তারিখ প্রকাশ না হলে সোমবার থেকে ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা ইতোমধ্যেই দিয়েছে কোটা বিরোধী ঐক্যজোট।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.