ঘুস, অর্থ আত্মসাৎ ও হাসপাতালের অনিয়ম: তিন জেলায় দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযান

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ৬ জানুয়ারী ২০২৬

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ঘুস গ্রহণ, পৌরসভায় প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় চরম অনিয়মের অভিযোগে দেশের তিন জেলায় পৃথক তিনটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

Islami Bank

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ঘুসের অভিযোগে অভিযান:

পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সময় ঘুস গ্রহণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুদক প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানকালে অধিদপ্তরের পরিচালকের সঙ্গে আলোচনা করে এনফোর্সমেন্ট টিম জানতে পারে, অভিযোগ তদন্তে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ সময় অভিযোগে উল্লিখিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিদর্শন-পরবর্তী রিপোর্টসহ গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। এসব নথিপত্র বিশ্লেষণ শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানায় দুদক।

পঞ্চগড় পৌরসভায় সোলার স্ট্রিট লাইট প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ:

পঞ্চগড় পৌরসভায় জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড প্রকল্পের আওতায় সৌরবাতি (সোলার স্ট্রিট লাইট) স্থাপনে বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে ক্রয়ের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঠাকুরগাঁও থেকে আরেকটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে।

আরও পড়ুন…তারেক রহমানের বৈঠক ঢাকা-১৭ আসনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে

অভিযানকালে পৌর প্রশাসক, নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৯ লাখ ৮৬ হাজার ৩২৪ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে ৭৫টি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের নথিপত্র প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়।

দুদকের প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রতিটি সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৫০ টাকা, যা বাজারমূল্যের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি।

one pherma

এছাড়া পৌরসভার চারটি ভিন্ন স্থানে স্থাপিত সোলার লাইট, প্যানেল ও ব্যাটারি সরেজমিনে পরিদর্শন করে কয়েকটি লাইট অকেজো অবস্থায় পাওয়া যায়।

এ সময় প্রকল্পের টেন্ডার ডকুমেন্টসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নথি বিশ্লেষণ শেষে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট টিম।

রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় ভয়াবহ অনিয়ম:

রাঙ্গামাটির ১০০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদানে হয়রানি ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগে দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাঙ্গামাটি থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম প্রথমে ছদ্মবেশে রোগী সেজে হাসপাতালে এসে চিকিৎসক ও নার্সদের সেবার মান, ওষুধ প্রাপ্যতা এবং রোগীদের খাবারের মান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, প্যাথলজি বিভাগ, স্টোররুম, ওষুধ বিতরণ ব্যবস্থা ও রান্নাঘর সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়।

রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রেসক্রিপশনে উল্লেখিত সব ওষুধ তারা পাচ্ছেন না। হাসপাতালের আশপাশে দালাল চক্রের সক্রিয় উপস্থিতির তথ্যও পাওয়া গেছে, যারা রোগীদের পাশের বেসরকারি ক্লিনিকে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিদর্শনকালে আরও দেখা যায়, রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত খাবারের মান সন্তোষজনক নয়। মাংসের পরিমাণ কম এবং একই সঙ্গে দুপুর ও রাতের খাবার একসাথে রান্না করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। বিভিন্ন ওয়ার্ডে বেডশিট অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া রোগী পরিবহনে ব্যবহৃত অ্যাম্বুলেন্সের লগবইও সংগ্রহ করা হয়।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us