ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা নিবেদন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর

ইবাংলা.প্রেস | জাতীয় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আজ মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Islami Bank

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

আরও পড়ুন…“একুশে ফেব্রুয়ারি: শহীদদের অমর ত্যাগের স্মরণ করবে জাতি”

পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারের বেদিতে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।

এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীকে শহীদ মিনারে অভ্যর্থনা জানান।

এ সময় বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জানানোর পর তিন বাহিনীর প্রধানও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে পুরো শহীদ মিনার এলাকা। শ্রদ্ধানুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সারতে শুক্রবার দুপুরে থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাধারণের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা করা হয়।

one pherma

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য রাজধানীসহ সারাদেশে নেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি।

একুশের প্রথম প্রহরে আজিমপুর কবরস্থান-এ ভাষা শহিদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয়ে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্রসমাজ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নামে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিকসহ আরও অনেকে শহিদ হন। তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই বাংলার রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি আসে এবং ভাষা আন্দোলন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি রচনা করে।

১৯৯৯ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে বিশ্বজুড়ে ভাষার বৈচিত্র্য রক্ষা ও মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

একুশের তাৎপর্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ বেতার ও **বাংলাদেশ টেলিভিশন**সহ বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

ইবাংলা.প্রেস/ বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us