পারমাণবিক আলোচনার মধ্যেই হামলা কূটনীতি ভঙ্গের অভিযোগ : ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ৪ মার্চ ২০২৬
পারমাণবিক আলোচনা চলার মাঝেই ইরানে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে সমাধান খোঁজার পরিবর্তে সামরিক পদক্ষেপ নেয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সময়ে দেশের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেহে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের পক্ষে কোনও বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড না করার জন্য জনগণকে সতর্ক করেছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনীতি এবং তাকে নির্বাচিত করা মার্কিন জনগণের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন বলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন…কুর্দি যোদ্ধাদের সামনে রেখে ইরানে চাপ বাড়ানোর কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘যখন খুব জটিল পারমাণবিক আলোচনাকে রিয়েল এস্টেট লেনদেনের মতো দেখা হয়, আর বড় বড় মিথ্যা বাস্তবতাকে আড়াল করে, তখন অবাস্তব প্রত্যাশা কখনোই পূরণ হতে পারে না’। তিনি আরও বলেন, ‘এর ফলাফল কী? বিদ্বেষের বশবর্তী হয়ে আলোচনার টেবিলেই বোমা হামলা।’
এদিকে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেহে জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার পক্ষে কেউ যেন কোনও বক্তব্য না দেন বা কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করেন।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, ‘যারা কোনোভাবে শত্রুকে সহযোগিতা করবে, তাদের শত্রু হিসেবেই বিবেচনা করা হবে বলে আমরা ঘোষণা করেছি। যেমন আমরা অস্থিরতার সময় বলেছিলাম, দাঙ্গাসংক্রান্ত মামলাগুলো অগ্রাধিকার পাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসনের ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ কিছু বলে বা করে, তারা শত্রুপক্ষের অবস্থানে আছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাদের বিরুদ্ধে বিপ্লবী ও ইসলামি নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।’
আরও পড়ুন…ই-হেলথ কার্ড চালু ও পরিত্যক্ত ভবনে ক্লিনিকের নির্দেশ
প্রসঙ্গত, যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই ইরানিদের তাদের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এটি সম্ভবত তাদের জন্য ‘প্রজন্মের পর প্রজন্মে পাওয়া একমাত্র সুযোগ’।
এর আগে চলতি বছর ইরানে দেশজুড়ে বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত হন। জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, বিক্ষোভকারীদের দমনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল।


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.