নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি নাগরিক আধিকার

ইবাংলা.প্রেস | সম্পাদকীয় | ১০ এপ্রিল ২০২৬

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। বাজারে বিভিন্ন সময়ে ফলমূল, দুধ, মিষ্টি, পানীয়, শিশুখাদ্যসহ নানা খাদ্যপণ্যে কেমিক্যাল বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার অতিশয় সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে । বিষয়টি শুধু ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য নয়, দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

Islami Bank

আরও পড়ুন…এ পর্যন্ত ৮৭টি বিল পাস প্রথম অধিবেশনে

বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য “নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩” রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত বাজার মনিটরিংও করছে জরিমানা করছে, ভেজাল পন্য ধংস করছে, তারপরও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় ভেজাল বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর আইন ও শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনের কঠিন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক পরীক্ষাগার বৃদ্ধি এবং নিয়মিত বাজার তদারকি আরও শক্তিশালী করা গেলে পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত হতে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা—খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ভেজাল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি জোরদার করা। সুস্থ সমাজ গড়তে নিরাপদ খাদ্য সবার অধিকার।

এ মৌলিক অধিকারের কে নিশ্চিত করতে নিন্ম লিখিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরিঃ
তার আগে একটু বলে নিতে চাই- এন্টি বায়োট্ক ঊষধ সঠিক ডোজ ব্যবহারে রোগীর ভেতর থাকা জীবাণু ধংস করে পক্ষান্তরে ভুল মাত্রা ব্যবহারে রোগিকে ধংস করে। জাতীয় এই ক্রোনিক ডিজিজের সঠিক সমাধান এর জন্যে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। প্রথম ধাপ: আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা বর্তমান আইন থাকলেও তা আরও কার্যকর ও কঠোর করা জরুরি।

আমার প্রস্তুাবনা সমুহ নিন্মরুপঃ
নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের মেজিস্টেট বা জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চলাকালে কোন অপরাধ ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক রায় ঘোষণা করে তা কার্যকর করতে হবে, ভিকটিম আফিল করার সুয়োগ পাবে। আসামিদের বিরুদ্ধে ভিডিও চিত্র যুক্তি সংগত সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ হন যোগ্য হবে।
, খাদ্যে বিষাক্ত কেমিক্যাল ব্যবহারে ন্যূনতম১০ বছর , শিশু খাদ্য বা অন্যান্য গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আজীবন কারাদণ্ড। একই অপরাধ পুনরাবৃত্তিতে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে। আইন শুধু থাকলেই হবে না, সেটি যেন ভয় সৃষ্টি করে—এমন শক্তিশালী হতে হবে।

one pherma

দ্বিতীয় ধাপ: আইন প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি
আইন অনেক সময় মানুষ জানেই না—এটাই বড় সমস্যা। কয়েক দিন আগে সংসদে একজন মন্ত্রী মহোদয় বলেন মজুদ করা বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করা হয়, এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়. “ কঠোর টা কত কঠোর তা কিন্তু বলা হয় নাই- অপরাধী দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন” সমস্যাটা এ জায়গায়। জন সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে টিভি, ফেসবুক, ইউটিউবে ছোট নাটিকা (Short Drama), স্কুল-কলেজে খাদ্য নিরাপত্তা শিক্ষা, মসজিদ, মন্দির, সামাজিক প্ল্যাটফর্মে সচেতনতা বার্তা, প্যাকেটজাত খাদ্যে সতর্কবার্তা লেবেল বাধ্যতামূলক, আশাকরা যায় জনগণ সচেতন হলে ভেজালকারীর বাজার নিজেই সংকুচিত হবে।

আরও পড়ুন…ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক: কোন ইস্যুতে আলোচনা, থাকছেন যেসব শীর্ষ নেতা

“আইন আছে কিন্তু প্রয়োগ নেই”—এই ধারণা ভেঙে দিতে হবে। জনমনে ভেজাল করা ও মজুদ করার বিষয়ে আতংক সৃষ্টি করতে হবে, নিশ্চিত করতে হবে এটা রাষ্ট্র দ্রোহের শামিল, ব্যপক প্রচারনার মাধ্যমে অপরাধীকে সামাজিক ভাবে বয়কট করতে হবে, খাদ্যে ভেজাল ও মজুদ সংক্রান্ত অপরাধের ধরন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে, জন্ম থকে ভেজাল দেখতে দেখতে এখন ভেজালকেই সঠিক মনে হয়, ভেজাল পন্য বা ক্যামিকেল ব্যবহার কারি , দোকানে বিক্রেতা, আমদানি করি কারা তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। এ ভজাল কাজের প্রক্রিত সুবিধা ভোগি কারা তাদেরকে অইনের আওতায় আনতে হবে। মজার বিষয় হল এখন আর মাছে ফরমালিন ব্যবহার হয়না, হয় বরফে নাম দেওয়া হয়েছে জল বরফ। অপরাধী তাঁর রাস্তা বদল করেছে।

গোয়েন্দা তথ্য – ১৮ কোটি লোকের দেশে বেতন ভুক্ত কর্মীদের দ্বারা পুণ তথ্য পাওয়া অসম্ভব, আমি আশাবাদী কমপক্ষে ৫ কোটি সচেতন নাগরিক এ বিষয়ে সোচ্চায় সহযোগিতা করবে, নিশ্চিত তথ্য্যর জন্য গোপনীয়তা স্বাপেক্ষে যদি পুরস্কৃত করা হয়, হলেতো আর কথাই নাই।

লাগবে শুধুমাত্র হান্টিংযুক্ত একটি ভেরিফাইড হোয়াটস আপ নাম্বার। এ নাম্বার এর অপর প্রান্তে যারা থাকবে তাদের কে শতভাগ অনেষ্ট হতে হবে। তথ্য পাচার করলে অপরাধীর মত একই সাজা তাকেও ভোগ করতে হবে। অপরাধি যত শক্তি শালী বা ধুরন্দর হোউকনা কেন সরকারের যদি সদিচ্ছা থাকে আমি আশা করি বাংলার ক্ষতিগ্রস্ত জনগনের সহায়তায় এ সমস্যা সমুলে উৎপাটন করা সম্ভব।

লেখকঃ ইফতেখারহোসেন

ইবাংলা.প্রেস/ বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us