আন্দামান সাগরে ট্রলারডুবি, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশিসহ ২৫০ জন নিখোঁজ
ইবাংলা.প্রেস| ডেস্ক প্রতিবেদক
আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি ট্রলার ডুবে অন্তত ২৫০ জন নারী, পুরুষ ও শিশু নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশি নাগরিকরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ।
আরও পড়ুন…বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বর্ণিল আয়োজনে বরণ
বিবৃতিতে জানা গেছে, ট্রলারটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়। পথে প্রচণ্ড বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে না পেরে এটি ডুবে যায়।
মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, এই ট্র্যাজেডি দীর্ঘদিনের বাস্তুচ্যুতি, রোহিঙ্গাদের টেকসই সমাধানের অভাব এবং শরণার্থী শিবিরে মানবিক সংকটের ভয়াবহ প্রতিফলন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আশা আরও ক্ষীণ করে দিয়েছে।
অন্যদিকে, শরণার্থী শিবিরে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়ায়, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অভাব, এবং অনিশ্চিত জীবনযাপন মানুষকে মরিয়া করে তুলছে। নিরাপত্তা ও উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তারা এমন প্রাণঘাতী সমুদ্রপথে পা বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চ আয়ের স্বপ্ন এবং মানবপাচারকারীদের বিভ্রান্তিকর প্রতিশ্রুতি অসহায় মানুষকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। এতে পাচারকারী চক্রগুলো সুযোগ নিয়ে মানুষকে এমন বিপজ্জনক যাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে, যা প্রায়ই মৃত্যুফাঁদে পরিণত হচ্ছে।
জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও সহায়তা জোরদার করতে হবে।
নতুন বছরকে সামনে রেখে এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে, মিয়ানমারে বাস্তুচ্যুতির মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধান এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
ইবাংলা.প্রেস/ বাএ


মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.