পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে বিশ্ব: প্যারিসে কপ৩১ ও আইইএর সংস্থার সংলাপে বাস্তবায়নের নতুন অঙ্গীকার

ইবাংলা.প্রেস | নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ মে ২০২৬

ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত কপ৩১ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA)-এর উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের উদ্বোধনী অধিবেশনে কপ–৩১-এর মনোনীত সভাপতি মুরাত কুরাম Murat Kurum গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

Islami Bank

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকের শুরুতেই তিনি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা এবং এর প্রধান Fatih Birol-কে এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এটি কপ–৩১ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার যৌথ উচ্চ পর্যায়ের সংলাপের প্রথম বৈঠক, যা বৈশ্বিক জ্বালানি ও জলবায়ু সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

তিনি বলেন, Paris Agreement (প্যারিস চুক্তি)-এর প্রথম দশকে বিশ্ব কাঠামো তৈরি, লক্ষ্য নির্ধারণ এবং প্রতিশ্রুতি গ্রহণে মনোযোগ দিয়েছে, তবে দ্বিতীয় দশকের মূল লক্ষ্য হবে বাস্তবায়ন।

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় জ্বালানি সংকট, নিরাপত্তা এবং নির্ভরশীলতা আবারও অগ্রাধিকার পেয়েছে এবং জ্বালানির বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সংকটগুলো শুধু ব্যয় বৃদ্ধি করেনি, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার গুরুত্বও স্পষ্ট করেছে।

মুরাত কুরুম জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে তার জ্বালানি কাঠামো পরিবর্তন করতে হবে এবং দ্রুত পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

এই রূপান্তরে বিদ্যুতায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও বলেন, তুরস্ক Recep Tayyip Erdoğan (রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান)-এর নেতৃত্বে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

কপ–৩১ প্রেসিডেন্সির অগ্রাধিকার তুলে ধরে তিনি বলেন, বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় আস্থা বজায় রাখা, টেকসই সংলাপের পরিবেশ তৈরি করা এবং দেশগুলোর সার্বভৌম অধিকারকে সম্মান জানিয়ে সহযোগিতা জোরদার করাই তাদের লক্ষ্য।

আরও পড়ুন…বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ শুরু

এ সময় তিনি কপ–৩১ ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণার কথা জানান, যা জ্বালানি নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির রূপান্তরকে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি জানান, কপ–৩১-এর কর্মসূচিতে জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদা—উভয় ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সরবরাহের ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির প্রসার এবং চাহিদার ক্ষেত্রে সবুজ শিল্পায়ন, পুনঃব্যবহারভিত্তিক অর্থনীতি, শূন্য বর্জ্য এবং জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

one pherma

কর্মসূচির আওতায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে চারটি ক্ষেত্রে—নবায়নযোগ্য জ্বালানি, নতুন বিদ্যুৎ ব্যবস্থার কাঠামো, বিদ্যুতায়নের সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি।

পাশাপাশি তিনি ‘পরিচ্ছন্ন রান্না’ বিষয়টিকে একটি বড় বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ২.৩ বিলিয়নের বেশি মানুষ এখনো কঠিন জ্বালানির চুলা ব্যবহার করে, যার ফলে প্রতিবছর লাখো মানুষের মৃত্যু ঘটে, যা বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকায় বেশি।

তিনি আরও বলেন, তুরস্কের ফার্স্ট লেডি Emine Erdoğan (এমিনে এরদোয়ান)-এর নেতৃত্বে পরিচালিত ‘শূন্য বর্জ্য’ উদ্যোগ শুধু বর্জ্য পুনর্ব্যবহার নয়, বরং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও দূষণ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সবুজ শিল্পায়নের ক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির বিস্তার, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহরগুলোই জ্বালানি রূপান্তরের বাস্তব ফলাফল প্রদর্শনের প্রধান ক্ষেত্র। তুরস্কে দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্গঠন, আবাসন প্রকল্প এবং নগর উন্নয়ন কার্যক্রম এ ক্ষেত্রে বাস্তব উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

একইসঙ্গে তিনি কপ–২৯ বাকু অর্থায়ন লক্ষ্যের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, লক্ষ্য ও বাস্তবায়নের মধ্যে যে ফাঁক রয়েছে, তা সঠিক প্রকল্পে বিনিয়োগ এবং কার্যকর অর্থায়নের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি অংশগ্রহণকারীদের কাছে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব আহ্বান করেন এবং বলেন, জ্বালানি উৎপাদন কীভাবে পরিবহন ও শিল্প খাতের বিদ্যুতায়নকে এগিয়ে নিতে পারে, কোথায় অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও অর্থায়নের বড় বাধা রয়েছে এবং কপ–৩১ থেকে তাদের প্রত্যাশা কী—এসব বিষয়ে মতামত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই সংলাপ থেকে পাওয়া সুপারিশগুলো ভবিষ্যতে কপ–৩১-এর কর্মপরিকল্পনা ও বৈশ্বিক অর্থায়ন কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

ইবাংলা বাএ

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে.

Contact Us